কর্জ মানুষের তথা সমাজের একটি প্রয়োজনীয় লেনদেন। সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জীবনযাপন
করার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো সময় ঋণ নেওয়ার কিংবা অন্যকে দেওয়ার সম্মুখীন
হতে হয়। ইসলামী শরিয়ত ঋণ গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে যেমন সুনির্দিষ্ট
দিকনির্দেশনা দিয়েছে তেমনি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও অত্যধিক গুরুত্বারোপ
করেছে।
হাদিস শরিফে এসেছেঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরিশোধ করার ইচ্ছা নিয়ে কারো কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে,
আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে আত্মসাৎ করার মনোভাব নিয়ে
কারো কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন”। [বুখারীঃ ২৩৮৭]
ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ সম্পর্কেই নিম্নের ঘটনাটিঃ
লায়স (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের কোন
এক ব্যক্তি বনী ইসরাঈলের অপর এক ব্যক্তির নিকট এক হাজার দীনার ঋণ চাইল।
তখন সে (ঋণদাতা) বলল, কয়েকজন সাক্ষী আন, আমি তাদেরকে সাক্ষী রাখব। সে বলল,
সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
তারপর (ঋণদাতা) বলল, তা হলে একজন যামিনদার উপস্থিত কর। সে বলল, যামিনদার হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। ঋণদাতা বলল, তুমি সত্যই বলেছ।
এরপর নির্ধারিত সময়ে তাকে এক হাজার দীনার দিয়ে দিল। তারপর ঋণ গ্রহীতা
সামুদ্রিক সফর করল এবং তার প্রয়োজন সমাধা করে সে যানবাহন খুঁজতে লাগল, যাতে
সে নির্ধারিত সময়ের ভেতর ঋণদাতার কাছে এসে পৌঁছতে পারে। কিন্তু সে কোন
যানবাহন পেল না।
তখন সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করল এবং ঋণদাতার
নামে একখানা পত্র ও এক হাজার দীনার তার মধ্যে ভরে ছিদ্রটি বন্ধ করে সমুদ্র
তীরে এসে বলল, হে আল্লাহ! তুমি তো জান আমি অমুকের নিকট এক হাজার দীনার ঋণ
চাইলে সে আমার কাছে যামিনদার চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহই যামিন হিসাবে
যথেষ্ট। এতে সে রাজী হয়। তারপর সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম
সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট, তাতে সে রাজী হয়ে যায়। আমি তার ঋণ (যথাসময়ে)
পরিশোধের উদ্দেশ্যে যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি।
তাই আমি তোমার নিকট সোপর্দ করলাম, এই বলে সে কাষ্ঠখন্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ
করল। আর কাষ্ঠখন্ডটি সমুদ্রে প্রবেশ করল।
অতঃপর লোকটি ফিরে গেল এবং নিজের শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজতে লাগল।
ওদিকে ঋণদাতা এই আশায় সমুদ্রতীরে গেল যে, হয়ত বা ঋণগ্রহীতা কোন নৌযানে করে
তার মাল নিয়ে এসেছে। তার দৃষ্টি কাষ্ঠখন্ডটির উপর পড়ল, যার ভিতরে মাল ছিল।
সে কাষ্ঠখন্ডটি তার পরিবারের জ্বালানীর জন্য বাড়ী নিয়ে গেল। যখন সে তা
চিরল, তখন সে মাল ও পত্রটি পেয়ে গেল।
কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা এক
হাজার দীনার নিয়ে এসে হাযির হল এবং বলল, আল্লাহর কসম! আমি আপনার মাল
যথাসময়ে পৌঁছিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে সব সময় যানবাহনের খোঁজে ছিলাম। কিন্তু আমি
যে নৌযানে এখন আসলাম, তার আগে আর কোন নৌযান পাইনি। ঋণদাতা বলল, তুমি কি
আমার নিকট কিছু পাঠিয়েছিলে? ঋণগ্রহীতা বলল, আমি তো তোমাকে বললামই যে, এর
আগে আর কোন নৌযান আমি পাইনি। সে বলল, তুমি কাঠের টুকরোর ভিতরে যা
পাঠিয়েছিলে, তা আল্লাহ তোমার পক্ষ হতে আমাকে আদায় করে দিয়েছেন। তখন সে
আনন্দচিত্তে এক হাজার দীনার নিয়ে ফিরে চলে গেল।
রেফারেন্সঃ
১. {সহিহ বুখারী (অধ্যায়ঃ যামিন হওয়া), হাদিস নাম্বারঃ ২২৯১, হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস}
২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
(ইসলামের ইতিহাসঃ আদি-অন্ত)
বঙ্গানুবাদ দ্বিতীয় খণ্ড (পৃষ্ঠা নাম্বারঃ ২৭২)
লেখকঃ হাফিজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (রহঃ)
ঘটনা থেকে শিক্ষাঃ
১. সমাজের উচ্চবৃত্তরা দরিদ্রদের প্রয়োজনে তাদেরকে বিনা শর্তে সুদবিহীন ঋণ
প্রদান করবে। এক্ষেত্রে কর্জে হাসানার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
আল্লাহ
তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায়, সওয়াবের নিয়তে বিনা শর্তে এবং সুদমুক্ত
ভাবে কাউকে কোনো কিছু ঋণ দিলে তাকে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ বলে।
সদকা বিষয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সদকা বা দান
ইসলামে সৎকর্ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর চেয়েও উত্তম হচ্ছে কর্জে হাসানা।
যে কারণে জগতের কোনো কিছুর যিনি মুখাপেক্ষী নন, সেই সর্বশক্তিমান
মহিমান্বিত আল্লাহ তার বান্দার জন্য আমাদের কাছে ‘কর্জে হাসানা’ বা উত্তম
ঋণ চেয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (তোমাদের মধ্য থেকে) কে (এমন) হবে
যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, (যে কেউই আল্লাহকে ঋণ দেবে সে যেন জেনে রাখে),
আল্লাহ তায়ালা (ঋণের সে অংক) তার জন্যে বহুগুন বাড়িয়ে দেবেন। [সূরা বাকারা,
আয়াত-২৪৫]
২. ঋণ গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে লিখনীর ব্যবহার এবং
সাক্ষী ও যামিনদার রাখার বিষয়ে ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ঋণ পরিশোধ
সহজভাবে সম্পন্ন করতে মহান আল্লাহ পাক লিখনীর ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করেন।
ঋণদানে গৃহীত চুক্তিসমূহ মানুষের মগজে সীমাবদ্ধ থাকলে তার ব্যত্যয় ঘটা
স্বাভাবিক। তাছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিবাদ-বিসম্বাদের সূত্রপাত ঘটতে পারে।
তাই আল্লাহ পাক এ বিষয়ে সতর্ক সংকেত প্রদান করে বলেনঃ
হে ঈমানদার
বান্দারা, তোমরা যখন পরপস্পরের সাথে নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্যে ঋণের
চুক্তি করো তখন তা লিখে রাখো; তোমাদের মধ্যকার যে কোনো একজন লেখক সুবিচারের
ভিত্তিতে (এ চুক্তিনামা) লিখে দেবে, যাকে আল্লাহ তায়ালা লেখা শিখিয়েছেন সে
যেন কখনো লিখতে অস্বীকৃতি না জানায়, (লেখার সময়) ঋণ গ্রহীতা (লেখককে) বলে
দেবে কি (কি শর্ত সেখানে) লিখতে হবে, (এ পর্যায়ে) লেখক অবশ্যই তার মালিক
আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করা উচিত, (চুক্তিনামা লেখার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে) তার
কিছুই যে বাদ না পড়ে; যদি সে ঋণ গ্রহীতা অজ্ঞ, মূর্খ এবং (সব দিক থেকে)
দুর্বল হয়, অথবা (চুক্তিনামার কথাবার্তা বলে দেয়ার) ক্ষমতাই তার না থাকে,
তাহলে তার পক্ষ থেকে তার কোনো অভিভাবক ন্যায়ানুগ পন্থায় বলে দেবে কি কি কথা
লিখতে হবে; (তদুপরি) তোমাদের মধ্য থেকে দুই জন পুরুষকে (এ চুক্তিপত্রে)
স্বাক্ষী বানিয়ে নিয়ো, যদি দুইজন পুরুষ (একত্রে) পাওয়া না যায় তাহলে একজন
পুরুষ এবং দুজন মহিলা (স্বাক্ষী হবে), যাতে করে তাদের একজন ভুলে গেলে
দ্বিতীয় জন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে; এমন সব লোকদের মধ্য থেকে সাক্ষী
নিতে হবে যাদেরকে উভয় পক্ষই পছন্দ করবে, (সাক্ষীদের) যখন (সাক্ষ্য প্রদানের
জন্যে) ডাকা হবে তখন তারা তা অস্বীকার করবে না; (লেনদেনের সময়) পরিমাণ ছোট
হোক কিংবা বড় হোক, তার দিন ক্ষণসহ (লিখে রাখতে) অবহেলা করো না; এটা
আল্লাহর কাছে ন্যায্যতর ও সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে অধিক মযবুত ভিত্তর ওপর
প্রতিষ্ঠত এবং (পরবর্তীকালে) যাতে তোমরা সন্দিগ্ধ না হও, তার সমাধানের
জন্যেও এটা নিকটতর (পন্থা), যা কিছু তোমরা নগদ (হাতে হাতে) আদান প্রদান করো
তা (সব সময়) না লিখলেও তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই, তবে ব্যবসায়িক লেনদেনের
সময় অবশ্যই সাক্ষী রাখবে, (দলিলের) লেখক ও (চুক্তিনামার) সাক্ষীদের কখনো
(তাদের মত বদলানোর জন্যে) কষ্ট দেওয়া যাবে না; তারপরও তোমরা যদি তাদের এ
ধরনের যাতনা প্রদান করো তাহলে (জেনে রেখো), তা হবে (তোমাদের জন্যে) একটি
মারাত্মক গুনাহ, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সবকিছু শিখিয়ে
দিচ্ছেন, (কেননা) আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই জানেন। [সূরা বাকারাঃ ২৮২]
৩. ঋণ গ্রহীতাকে অবশ্যই যথাসময়ে যথানিয়মে ঋণ পরিশোধে সচেষ্ট থাকতে হবে।
উক্ত ঘটনায় ঋণ গ্রহীতার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ
প্রচেষ্টা আমরা দেখতে পাই। হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত সাওবান (রাঃ)
বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তির আত্মা অহংকার, আত্মসাৎ
এবং ঋণ থেকে মুক্ত অবস্থায় দেহ ত্যাগ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।
(তিরমিযী)।
৪. বান্দাকে অবশ্যই তার নিজস্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে
সম্পন্ন করতে হবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। উক্ত ঘটনায় আমরা দেখি যে,
ঋণ গ্রহীতা ঋণের অর্থ নির্ধারিত সময়ে ফেরত দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা
চালায় এবং সে ব্যর্থ হয়। অতঃপর সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করে এবং
ঋণদাতার নামে একখানা পত্র ও এক হাজার দীনার তার মধ্যে ভরে ছিদ্রটি বন্ধ করে
দেয়। সে সমুদ্র তীরে এসে আল্লাহর নাম নিয়ে উক্ত অর্থ ঋণ দাতার নিকট পৌঁছে
দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর উপর সোপর্দ করে কাষ্ঠখন্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করে।
নিজস্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রে ঘটনার এ অংশটি বিশেষ লক্ষণীয়
যে, ঋণ গ্রহীতা তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যানবাহন ম্যানেজ করতে ব্যর্থ
হওয়ার পর পরই আল্লাহর উপর ভরসা করে ঋণকৃত অর্থ সমুদ্রে নিক্ষেপ করেনি। বরং
সে তার আওতাভুক্ত কাজটুকু যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করেছে এবং আল্লাহ প্রদত্ত
বিবেক বুদ্ধির যথাযথ ব্যবহার করেছে।
সে একটি কাষ্ঠখন্ড সংগ্রহ করে
(যাহা সমুদ্রের পানিতে ভাসমান থাকে এবং যাতে এটি ঋণদাতা তথা মানুষের দৃষ্টি
গোচর হয়)। সে কাষ্ঠখন্ডটি ছিদ্র করে এবং ঋণদাতার নামে একখানা পত্র ও এক
হাজার দীনার তার মধ্যে ভরে ছিদ্রটি বন্ধ করে দেয়। ঋণদাতার নামে পত্র লিখার
ক্ষেত্রে নিম্নের দুটি বিষয় বিবেচ্য হতে পারেঃ
(i) আল্লাহর ইচ্ছায়
উক্ত ঋণের অর্থ ঋণ দাতার নিকট পৌঁছলে যাতে সে চিঠি পাঠ করে নিশ্চিত হতে
পারে যে, উক্ত দীনার ঋণ গ্রহীতাই তাকে উদ্দেশ্য করে পাঠিয়েছেন।
(ii)
আল্লাহর ইচ্ছায় উক্ত ঋণের অর্থ ঋণ দাতার বদলে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট
পৌঁছলে যাতে সে উক্ত অর্থ ভোগের বিষয়ে সচেতন হতে পারে এবং ঋণ দাতা অথবা ঋণ
গ্রহীতাকে উক্ত অর্থ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে। (আল্লাহ-ই ভালো
জানেন)।
৫. ঋণ দাতা ও গ্রহীতাকে অবশ্যই ‘তাকওয়া’ অবলম্বন করতে হবে।
৬. ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সূরা নিসা এর ১১ থেকে
১৪ নম্বর আয়াতে। আয়াতসমূহে মহান আলাহ তায়ালা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করেছেন। এমনকি তিনি তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত
ও ঋণ পরিশোধের পর তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি বন্টন করা হয়।
৭. ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব সংক্রান্ত কিছু হাদিসঃ
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ত্বরাপ্রবণতা শয়তানের পক্ষ থেকে উদ্ভুত; তবে পাঁচটি ক্ষেত্র ব্যতীতঃ
(i) বয়প্রাপ্ত হলে মেয়েকে বিয়ের ব্যবস্থা করা।
(ii) মেয়াদ এসে গেলে ঋণ পরিশোধ করা।
(iii) কেউ মৃত্যুবরণ করলে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা।
(iv) মেহমান আগমণ করলে তাকে আপ্যায়ন করা।
(v) গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করা। (মিনহাজ)।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল (সাঃ) বলেন, তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম লোক, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে’। (বুখারী)।
হযরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,
‘একমাত্র ঋণ ছাড়া শহীদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়’। (মুসলিম)।
হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ!
আপনি কি মনে করেন, যদি আমি আল্লাহর পথে অগ্রগামী অবস্থায় পশ্চাদপদ না হয়ে
সওয়াবের আশায় দৃঢ়পদ থেকে শহীদ হই, তাহলে আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করে
দিবেন কী?’ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘হ্যাঁ’। অতঃপর লোকটি চলে যেতে লাগলে
তিনি পেছন থেকে ডেকে বললেন, ‘হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতিত’। (মুসলিম)।
হযরত
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) এর নিকট জানাযা আনা হলো
যেন তিনি জানাযার নামায পড়ান। অতঃপর তিনি বললেন, ‘তার উপর ঋণ আছে কী?’
লোকেরা বলল, ‘হ্যাঁ’। রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘জিবরাইল (আঃ) আমাকে যার উপর ঋণ
রয়েছে তার জানাযা পড়াতে নিষেধ করেছেন’। (তারগীব)।
হযরত আবু মূসা
আশয়ারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ
কবিরা গুনাহসমূহের পরে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কবিরা গুনাহ হলো কোন বান্দার আল্লাহ
তায়ালার সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাত করা যে, তার উপর ঋণ রয়েছে, অথচ
পরিশোধযোগ্য কিছুই সে রেখে যায়নি’। (আবু দাউদ)।
হযরত মায়মুন কুরদি
(রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি
যে, ‘যদি কোন ব্যক্তি কম বেশি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহর ধার্য করে বিবাহ
করে, কিন্তু মনে মনে স্ত্রীর হক আদায় করার ইচ্ছা রাখে না বরং ধোকা দিয়ে
থাকে। অতঃপর পরিশোধ করা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করলো, তাহলে লোকটি কিয়ামতের ময়দানে
আল্লাহ তায়ালার সামনে যিনাকারী হিসেবে উঠবে। আর যে ব্যক্তি কারো থেকে ঋণ
গ্রহণ করে তা পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে না বরং ধোকা দিয়ে অন্যের মাল গ্রাস
করে; অতঃপর সে অপরিশোধিত অবস্থায় মারা গেলে আল্লাহ তায়ালার সামনে চোর
সাব্যস্ত হয়ে উঠবে’। (তাবারানী)।
হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের উপর একটি দিনার অথবা একটি
দিরহাম ঋণ রেখে মৃত্যুবরণ করলো তা তার পূণ্য থেকে পরিশোধ করা হবে। কেননা
সেখানে কোনো দিনারও নেই দিরহামও নেই’। (ইবনে মাজাহ)।
হযরত সামুরা
(রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেন, ‘হাতের উপর ওই বস্তুর দায়বদ্ধতা
রয়েছে, যা সে গ্রহণ করেছে, যে পর্যন্ত না তা প্রাপকের নিকট ফিরিয়ে দেয়’।
(বুখারী)।
হযরত আবু উমামা (রাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণে নবী করীম (সাঃ)
কে এই কথা বলতে শুনেছেন যে, ‘ধার নেয়া বস্তু ফেরৎ দেয়া অপরিহার্য’। (আবু
দাউদ)।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমাদেরকে আত্ন-অহংকার, আত্নসাৎ এবং ঋণ মুক্ত অবস্থায় মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।
সম্পাদনাঃ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম
No comments:
Post a Comment