Tuesday, December 31, 2019

সূরা আল-মুলক [সার্বভৌম কর্তৃত্ব/সর্বময় কর্তৃত্ব/সার্বভৌমত্ব/প্রভুত্ব]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৩০, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৭, অবতীর্ণের অনুক্রম ৭৭]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

. (কতো) মহান সেই পুণ্যময় সত্তা, যাঁর হাতে (রয়েছে আসমান যমীনের যাবতীয়) সার্বভৌমত্ব, (সৃষ্টি জগতের) সব কিছুর ওপর তিনি একক ক্ষমতাবান,

. যিনি মৃত্যু ও জন্ম সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে তিনি তোমাদের যাচাই করে নিতে পারেন যে, কর্মক্ষেত্রে কে তোমাদের মধ্যে উত্তম। তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি অসীম ক্ষমাশীল,

. যিনি সাত আসমান বানিয়েছেন, একটার ওপর আরেকটা (স্থাপন করেছেন); অসীম দয়ালু আল্লাহ তায়ালার (নিপুণ) সৃষ্টির কোথাও তুমি কোনো খুঁত দেখবে না; আবার (তাকিয়ে) দেখো তো, (এর) কোথাও কি তুমি কোনো রকম ফাটল দেখতে পাও?

. অতপর (তোমার) দৃষ্টি ফেরাও (নভোমন্ডলের প্রতি), আরেকবার (তোমার দৃষ্টি ফেরাও দেখবে, তোমার) দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকেই ফিরে আসবে।

. নিকটবর্তী আকাশটিকে (দেখো, কিভাবে) প্রদীপমালা দিয়ে আমি তাকে সাজিয়ে রেখেছি, (ঊর্ধ্বলোকের দিকে গমনকারী) শয়তানদের তাড়িয়ে বেড়ানোর জন্যে এ (প্রদীপ)-গুলোকে আমি (ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে) সংস্থাপন করে রেখেছি, (চূড়ান্ত বিচারের দিন) এদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডলীর ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থাও আমি (যথাযথভাবে) প্রস্তুত করে রেখেছি।

. (এতো নিদর্শন সত্ত্বেও) যারা তাদের মালিককে অস্বীকার করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের (কঠোরতম) শাস্তি; জাহান্নাম কতোই না নিকৃষ্টতম স্থান!

. এর মধ্যে যখন তাদের ছুঁড়ে ফেলা হবে তখন (নিক্ষিপ্ত হবার আগেই) তারা শুনতে পাবে, তা ক্ষিপ্ত হয়ে বিকট গর্জন করছে,

. (মনে হবে) তা যেন প্রচন্ড ক্রোধের কারণে ফেটে দীৰ্ণ বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে; যখনই একদল (নতুন পাপী)-কে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে তখনই তার প্রহরীরা তাদের জিজ্ঞেস করবে, (এ আযাবের কথা বলার জন্যে) তোমাদের কাছে কোনো সাবধানকারী কি আসেনি?

. তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের কাছে (আযাবের) সাবধানকারী (নবী রসূল) এসেছিলো, কিন্তু আমরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি, আমরা (তাদের) বলেছি, (এ দিন সংক্রান্ত) কোনো কিছুই আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেননি; বরং তোমরা নিজেরাই চরম বিভ্রান্তিতে ডুবে আছো।

১০. তারা বলবে, কতো ভালো হতো (যদি সেদিন) আমরা (নবী রসূলদের কথা) শুনতাম এবং (তা) অনুধাবন করতাম! (তাহলে আজ) আমরা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দাদের মধ্যে গণ্য হতাম না।

১১. অতপর তারা নিজেরাই নিজেদের (যাবতীয়) অপরাধ স্বীকার করে নেবে, ধিক্কার জাহান্নামের অধিবাসীদের ওপর!

১২. (অপর দিকে) সেসব (সৌভাগ্যবান) মানুষ, যারা নিজেরা গায়ব থেকে তাদের রবকে ভয় করেছে, নিসন্দেহে তাদের জন্যে রয়েছে (আল্লাহ তায়ালার) ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।

১৩. তোমরা তোমাদের কথা লুকিয়ে রাখো কিংবা (তা) প্রকাশ করো (আল্লাহর কাছে এর উভয়টাই সমান); অবশ্যই তিনি মনের ভেতর লুকিয়ে রাখা বিষয় সম্পর্কেও সম্যক ওয়াকেফহাল।

১৪. তিনি কি (সৃষ্টি সম্পর্কিত বিষয়ে) জানবেন না- যিনি (এগুলো) বানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী এবং সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

১৫. তিনিই মহান সত্তা যিনি ভূমিকে তোমাদের অধীন করে বানিয়েছেন, তোমরা (যেভাবে চাও) এর অলিগলির মধ্য দিয়ে চলাচল করো এবং এর থেকে (উদগত) রেযেক তোমরা উপভোগ করো; (অবশেষে) তার দিকেই (হবে সবার) প্রত্যাবর্তন।

১৬. তোমরা কি তাঁর কাছ থেকে নিরাপদ যিনি আকাশে (সব কিছুর মালিক)? তিনি কি তোমাদেরসহ ভূমন্ডলকে গেড়ে দেবেন না? (এমন অবস্থা যখন হবে) তখন তা (ভীষণভাবে) কম্পমান হবে,

১৭. অথবা তোমরা কি আকাশের অধিপতি আল্লাহ তায়ালা থেকে নিরাপদ যে, তিনি তোমাদের ওপর (প্রস্তর নিক্ষেপকারী) প্রচন্ড বায়ু প্রবাহিত করবেন না? তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কেমন (ভয়াবহ হতে পারে) আমার সাবধানবাণী!

১৮. তাদের আগেও যারা (আমার সাবধানবাণী) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, দেখো, কেমন (ছিলো তাদের প্রতি) আমার আচরণ!

১৯. এ সব লোকেরা কি তাদের মাথার ওপর (দিয়ে উড়ে যাওয়া) পাখীগুলোকে দেখে না (কিভাবে এরা) নিজেদের পাখা মেলে রাখে, (আবার) এক সময় (তা) গুটিয়েও নেয়, পরম দয়ালু আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কে এদের (মহাশূন্যে) স্থির করে রাখেন, অবশ্যই তিনি (তাঁর সৃষ্টির ছোটো বড়ো) সব কিছুই দেখেন।

২০. (বলো তো,) তোমাদের মধ্যে এমন কে এখানে আছে যার কাছে (এমন) একটি সৈন্যবাহিনী আছে, (যা দিয়ে) তারা অসীম দয়ালু আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবে? (আসলে) এ অস্বীকারকারী ব্যক্তিরা (সব সময়ই) বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাকে,

২১. যদি তিনি তোমাদের রেযেক বন্ধ করে দেন, তাহলে এখানে এমন আর কে আছে যে তোমাদের (পুনরায়) রেযেক সরবরাহ করতে পারবে? (আসলে) এরা (আল্লাহ তায়ালার) বিদ্রোহ এবং গোঁড়ামিতেই (নিমজ্জিত) রয়েছে।

২২. যে ব্যক্তি যমীনে উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে সে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে হেদায়াতপ্রাপ্ত, না যে (ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে) সঠিক পথ ধরে চলে সে (বেশী হেদায়াতপ্রাপ্ত)?

২৩. (হে নবী,) তুমি বলো, (হ্যাঁ), তিনিই তোমাদের পয়দা করেছেন, তিনি তোমাদের (শোনার ও দেখার জন্যে) কান এবং চোখ দিয়েছেন, আরো দিয়েছেন (চিন্তা করার মতো) একটি অন্তর; কিন্তু তোমরা খুব কমই (এসব দানের) কৃতজ্ঞতা আদায় করো।

২৪. তুমি বলো, তিনি এ ভূখন্ডে তোমাদের (সর্বত্র) ছড়িয়ে রেখেছেন, আবার (একদিন চারদিক থেকে) তাঁরই সম্মুখে তোমাদের সবাইকে জড়ো করা হবে।

২৫. তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে (বলো) কবে এটা (সংঘটিত) হবে?

২৬. তুমি বলো, () তথ্য তো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে, আমি তো একজন সুস্পষ্ট সাবধানকারী মাত্র!

২৭. যখন (সত্যি সত্যিই) (প্রতিশ্রুতি)-টি তারা (সংঘটিত হতে) দেখবে- যারা (দুনিয়ায় একে) অস্বীকার করেছিলো, তখন তাদের সবার মুখমন্ডল বিকৃত হয়ে যাবে এবং (তাদের তখন) বলা হবে, এ হচ্ছে সেই (মহাধ্বংস), যাকে তোমরা পেতে চাইতে!

২৮. তুমি বলো, তোমরা কি এ কথা ভেবে দেখেছো যে, আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে এবং আমার সংগী সাথীদের ধ্বংস করে দেন, কিংবা (ধ্বংস না করে) তিনি যদি আমাদের ওপর দয়া প্রদর্শন করেন (এ উভয় অবস্থায়), কিন্তু (আল্লাহ তায়ালাকে) যারা অস্বীকার করেছে তাদের এ ভয়াবহ আযাব থেকে কে বাঁচাবে। 

২৯. তুমি বলো (হ্যাঁ, সেদিন বাঁচাতে পারেন একমাত্র) দয়াময় (আল্লাহ তায়ালা)-, তাঁর ওপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা তাঁর ওপরই নির্ভর করেছি, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (আমাদের মধ্যে) কে সুস্পষ্ট গোমরাহীর মাঝে নিমজ্জিত ছিলো?

৩০. (হে নবী,) তুমি বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমাদের (এই) পানি যদি কখনো উধাও হয়ে যায়, তাহলে কে তোমাদের জন্যে এ (পানির) প্রবাহধারা (পুনরায়) বের করে আনবে?

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

Saturday, December 14, 2019

সূরা আল-ক্বলাম অথবা সূরা নূন [কলম অথবা এই বর্ণগুলি (নুন, ইত্যাদি) কুরআনের অলৌকিকতার অন্যতম পরিচায়ক এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউই এ বর্ণগুলির অর্থ জানেন না (ড. মুহাম্মাদ মহসিন খান ও ড. এম. তাকি উদ্দীন আল-হিলালী)]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৫২, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৮, অবতীর্ণের অনুক্রম ০২]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. নূ-ন-, শপথ কলমের, (আরো শপথ এ কলম দিয়ে) তারা যা লিখে রাখছে- তার,

২. তোমার মালিকের দয়ায় তুমি কোনো পাগল নও,

৩. তোমার জন্যে অবশ্যই এমন পুরস্কার রয়েছে যা কোনোদিনই নিশেষ হবে না,

৪. নিসন্দেহে তুমি মহান চরিত্রের ওপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছো।

৫. অচিরেই তুমি ও (তোমাকে যারা পাগল বলে) তারা সবাই দেখতে পাবে-

৬. তোমাদের মধ্যে কে ছিলো বিকারগ্রস্ত (পাগল)!

৭. অবশ্যই তোমার রব ভালো করেই জানেন (তোমাদের মধ্যে) কোন্ ব্যক্তি তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, (আবার) যারা সঠিক পথের ওপর রয়েছে তিনি তাদের সম্পর্কেও সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন।

৮. অতএব তুমি মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের অনুসরণ করো না।

৯. তারা (তো তোমার এ নমনীয়তাটুকুই) চায়, তুমি যদি (তাদের কিছু) গ্রহণ করো অতপর তারাও (তোমার কিছু) গ্রহণ করবে।

১০. যারা বেশী বেশী কসম করে (পদে পদে) লাঞ্ছিত হয়, এমন সব মানুষদের তুমি কখনো অনুসরণ করো না,

১১. যে (বেহুদা) গালমন্দ করে, (খামাখা) অভিশাপ দেয় এবং চোগলখোরী করে-

১২. যে ভালো কাজে বাধা সৃষ্টি করে, (অন্যায়ভাবে) সীমালংঘন করে, (সর্বোপরি) যে পাপিষ্ঠ-

১৩. যে কঠোর স্বভাবের অধিকারী, এরপর যে (জন্ম পরিচয়ের দিক থেকেও) জারজ,

১৪. যেহেতু সে (বিপুল) ধনরাশি ও (অনেকগুলো) সন্তান সন্ততির অধিকারী-

১৫. এ লোককে যখন আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয় তখন সে বলে, এগুলো তো হচ্ছে আগের দিনের গল্প কাহিনী মাত্র!

১৬. অচিরেই আমি তার শুড়ে দাগ দিয়ে (তাকে চিহ্নিত করে) দেবো।

১৭. অবশ্যই আমি এদের পরীক্ষা করেছি, যেমনি (অতীতে) আমি একটি ফলের বাগানের কতিপয় মালিককে পরীক্ষা করেছিলাম, (তা ছিলো এমন যে, একদিন) তারা সবাই শপথ করে বলেছিলো, অবশ্যই তারা সকাল বেলায় গিয়ে (বাগানের) ফল পাড়বে,

১৮. তারা (তাদের শপথে) আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা অভিপ্রায় (সম্বলিত) কিছুই যোগ করেনি।

১৯. (ভোর হতে না হতেই) তোমার মালিকের পক্ষ থেকে তার ওপর এক বিপর্যয় এসে পড়লো (তখনো) তারা ছিলো নিদ্রামগ্ন।

২০. অতপর সকাল বেলায়ই তা মধ্যরাতের কৃষ্ণ বর্ণের মতো কালো হয়ে গেলো। 

২১. (এদিকে) সকাল হতেই তারা একে অপরকে ডাকাডাকি করতে লাগলো-

২২. তোমরা যদি (সত্যিই) ফল আহরণ করতে চাও তাহলে সকাল সকাল নিজেদের বাগানের দিকে চলো।

২৩. (অতপর) তারা সেদিকে রওনা দিলো, (পথের মধ্যে) তারা ফিসফিস করে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলো,

২৪. কোনো অবস্থায়ই আজ যেন কোনো (দুস্থ) মেসকীন ব্যক্তি তোমাদের ওপর (টেক্কা) দিয়ে বাগানে এসে প্রবেশ করতে না পারে,

২৫. তারা সকাল বেলায়ই সংকল্পবদ্ধ হয়ে এসে হাযির হলো, (যেন) তারা নিজেরাই (আজ সব ফসল তুলতে) সক্ষম হবে।

২৬. অতপর যখন তারা সে (বাগানের) দিকে তাকিয়ে দেখলো, তখন বলতে লাগলো (একি!), আমরা নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট (হয়ে পড়েছি)।

২৭. (না, আসলেই) আমরা (আজ সবকিছু থেকে) বঞ্চিত হয়ে গেছি।

২৮. (এ সময়) তাদের মধ্যকার একজন ভালো মানুষ বললো, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, (সব কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে), কতো ভালো হতো যদি তোমরা (আল্লাহ তায়ালার নামের) ‘তাসবীহ’ করতে! 

২৯. তারা বললো, আমাদের মালিক অনেক পবিত্র, (তাঁর নাম না নিয়ে) আমরা (সত্যিই) যালেম হয়ে পড়েছিলাম।

৩০. তারা পরস্পরকে তিরস্কার করে একে অপরের ওপর দোষারোপ করতে লাগলো।

৩১. তারা বললো, দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা তো (আসলেই) সীমালংঘনকারী।

৩২. আশা করা যায় আমাদের রব (এর) বদলে (আখেরাতে) এর চাইতে উৎকৃষ্ট (কিছু আমাদের) দান করবেন, আমরা আমাদের মালিকের দিকেই ফিরে যাচ্ছি।

৩৩. আযাব এভাবেই (নাযিল) হয়, আর পরকালের আযাব, তা তো অনেক গুরুতর। কতো ভালো হতো যদি তারা তা জানতো!

৩৪. (অপরদিকে) যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্যে অবশ্যই তাদের মালিকের কাছে নেয়ামতে ভরপুর জান্নাত রয়েছে।

৩৫. যারা আমার আনুগত্য করে তাদের সাথে আমি কি অপরাধীদের মতো আচরণ করবো?

৩৬. এ কি হলো তোমাদের! (আমার ইনসাফ সম্পর্কে) কি সিদ্ধান্ত করছো তোমরা?

৩৭. তোমাদের কাছে কি এমন কোনো কিতাব আছে যাতে তোমরা (এটি) পড়েছো।

৩৮. সেখানে তোমাদের জন্যে সে ধরনের সব কিছুই সরবরাহ করা হবে, যা তোমরা তোমাদের জন্যে পছন্দ করবে,

৩৯. না আমি তোমাদের সাথে কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি- এমন চুক্তি, যা কেয়ামত পর্যন্ত মানা বাধ্যতামূলক হবে, (এবং) তোমরা যা কিছু দাবী করো তাই তোমরা পাবে,

৪০. তুমি এদের জিজ্ঞেস করো, তোমাদের মধ্যে কে এ দায়িত্ব নিতে পারে,

৪১. তাদের কি (অন্য কোনো) অংশীদার আছে? যদি তারা সত্যবাদী হয় তাহলে তারা তাদের অংশীদারদের সবাইকে নিয়ে আসুক!

৪২. যেদিন (যাবতীয়) রহস্য উদঘাটিত হয়ে পড়বে, তখন তাদের সাজদাবনত হওয়ার আহ্‌বান জানানো হবে, এসব (হতভাগ্য) ব্যক্তিরা (কিন্তু সেদিন সাজদা করতে) সক্ষম হবে না,

৪৩. (সেদিন) তাদের দৃষ্টি নিম্নগামী হবে, অপমান তাদের ভারাক্রান্ত করে রাখবে; (দুনিয়ায়) যখন তাদের (আল্লাহর সম্মুখে) সাজদা করতে ডাকা হয়েছিলো, (তখন) তারা সুস্থ (সক্ষম) ছিলো।

৪৪. অতপর তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, যে আমার এ (কিতাব)কে অস্বীকার করে (আমি তার থেকে প্রতিশোধ নেবো), আমি ধীরে ধীরে এদের (ধ্বংসের) দিকে ঠেলে নিয়ে যাবো যে, এরা তার কিছুই টের পাবে না,

৪৫. আমি এদের অবকাশ দিয়ে রাখি, (অপরাধীদের ধরার) আমার এ কৌশল অত্যন্ত কার্যকর।

৪৬. তুমি কি এদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক দাবী করছো যে, তারা জরিমানার বোঝায় ভারী হয়ে পড়েছে।

৪৭. না তাদের কাছে অজানা জগতের কোনো খবর রয়েছে যা তারা লিখে রাখে!

৪৮. (হে নবী) তুমি (বরং) তোমার মালিকের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার জন্যে ধৈর্য ধারণ করো এবং (এ ব্যাপারে) মাছের ঘটনার সাথী (নবী ইউনুস)-এর মতো হয়ো না। যখন সে দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে (আল্লাহ তায়ালাকে) ডেকেছিলো;

৪৯. তখন যদি তার মালিকের অনুগ্রহ তার ওপর না থাকতো তাহলে তাকে নিন্দিত অবস্থায় সাগরের খোলা তীরে ফেলে রাখা হতো।

৫০. অতপর তার রব তাকে বাছাই করলেন এবং তিনি তাকে (তাঁর) নেক বান্দাদের (কাতারে) শামিল করে নিলেন।

৫১. কাফেররা যখন (আল্লাহর) কিতাব শোনে তখন এমনভাবে তাকায়, এক্ষুণি বুঝি এরা নিজেদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ঘায়েল করে দেবে, তারা (একথাও) বলে, (এই কিতাবের বাহক) সে একজন পাগল।

৫২. (আসলে) এ কিতাব তো মানবমন্ডলীর জন্যে একটি উপদেশ বৈ কিছুই নয়।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

Tuesday, December 10, 2019

সূরা আল-হাক্কাহ [১. নিশ্চিত সত্য (ঘটনা)/অনিবার্য সত্য (ঘটনা)/অবশ্যম্ভাবী ঘটনা। ২. ‘হাক্কাহ’ কিয়ামতের একটি নাম (ইবনে কাসীর)]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৫২, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৯, অবতীর্ণের অনুক্রম ৭৮]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. একটি অনিবার্য সত্য (ঘটনা)।

২. কি (সেই) অনিবার্য সত্য (ঘটনা)?

৩. তুমি কি জানো (সেই) অনিবার্য সত্য ঘটনাটা কি?

৪. আ’দ ও সামুদ জাতির লোকেরা মহাপ্রলয় (সংক্রান্ত এই সত্য ঘটনা)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো।

৫. (দাম্ভিক) সামুদ গোত্রের লোকদের (এই কারণেই) এক প্রলয়ংকরী বিপর্যয় দ্বারা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

৬. আর (শক্তিশালী গোত্র) আ’দকে ধ্বংস করা হয়েছে প্রচন্ড এক ঝঞ্ঝাবায়ুর আঘাতে

৭. টানা সাত রাত ও আট দিন ধরে তিনি তাদের ওপর দিয়ে এ প্রচন্ড বায়ু প্রবাহিত করে রেখেছিলেন, (তাকালে) তুমি (সে) জাতিকে দেখতে পেতে, তারা যেন মৃত খেজুর গাছের কতিপয় অন্তসারশূন্য কান্ডের মতো উপুড় হয়ে পড়ে আছে!

৮. তুমি কি দেখতে পাচ্ছো- তাদের একজনও কি এ (গযব) থেকে রক্ষে পেয়েছে?

৯. (দাম্ভিক) ফেরাউন, তার আগের কিছু লোক এবং উপড়ে ফেলা জনপদের অধিবাসীরাও (একই) অপরাধ করেছিলো,

১০. এরা তাদের মালিকের (পক্ষ থেকে আসা) রসূলদের অবাধ্যতা করেছে, অতপর আল্লাহ তায়ালা তাদের কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।

১১. (নবী নূহের সময়) যখন পানি (তার) সীমা অতিক্রম করলো, তখন আমি তোমাদের (বাঁচানোর জন্যে) নৌকায় উঠিয়ে নিয়েছিলাম,

১২. যেন তোমাদের জন্যে আমি তাকে একটি শিক্ষামূলক ঘটনা বানিয়ে রাখতে পারি, (তাছাড়া) উৎসাহী কানগুলো যেন এ (ঘটনা)-টা (পরবর্তী মানুষদের জন্যে) স্মরণ রাখতে পারে।

১৩. অতপর যখন শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে- (তা হবে) একটি মাত্র ফুঁ,

১৪. আর ভূমণ্ডল ও পাহাড়গুলোকে (সস্থান থেকে) উঠিয়ে নেয়া হবে, তারপর উভয়টাকে একেবারেই চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া হবে,

১৫. (ঠিক) সেদিনই মহাঘটনাটি সংঘটিত হবে,

১৬. (সেদিন) আকাশ ফেটে পড়বে, অতপর সেদিন তা বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে

১৭. ফেরেশতারা আকাশের প্রান্তে অবস্থান করবে; আর (তাদেরই) আট জন ফেরেশতা তোমার মালিকের ‘আরশ’ তাদের ওপর বহন করে রাখবে;

১৮. সেদিন (আল্লাহ তায়ালার সামনে) তোমাদের পেশ করা হবে, তোমাদের কোনো কিছুই (সেদিন) গোপন থাকবে না।

১৯. সেদিন যার আমলনামা তার ডান হাত দেয়া হবে সে (খুশীতে লোকজনকে ডেকে) বলবে, তোমরা (এসো)- আমার (আমলনামার) পুস্তকটি পড়ে দেখো।

২০. অবশ্যই আমি জানতাম আমাকে একদিন হিসাব নিকাশের সামনাসামনি হতে হবে,

২১. অতপর (বেহেশতের উদ্যানে) সে (চির) সুখের জীবন যাপন করবে,

২২. (সে উদ্যান হবে) আলীশান জান্নাতের মধ্যে,

২৩. এর ফলমূল (তাদের) নাগালের মধ্যেই ঝুলতে থাকবে।

২৪. (আল্লাহর ঘোষণা আসবে,) অতীতে যা তোমরা (অর্জন) করে এসেছো তার পুরস্কার হিসেবে (আজ) তোমরা (প্রাণভরে এগুলো) খাও এবং তৃপ্তি সহকারে পানীয় গ্রহণ করো।

২৫. যার আমলনামা সেদিন তার বাম হাতে দেয়া হবে, (দুঃখ ও অপমানে) সে বলবে, কতো ভালো হতো যদি (আজ) আমাকে কোনো রকম আমলনামা নাই দেয়া হতো!

২৬. আমি যদি আমার হিসাব (-এর খাতাটি) না-ই জানতাম,

২৭. হায়! (প্রথম) মৃত্যুই যদি আমার জন্যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী (বিষয়) হয়ে যেতো!

২৮. আমার ধন সম্পদ ও ঐশ্বর্য (আজ) কোনো কাজেই লাগলো না,

২৯. আমার সব কতৃত্ব (ও ক্ষমতা আজ) নিশেষ হয়ে গেলো,

৩০. (এ সময় জাহান্নামের প্রহরীদের প্রতি আদেশ আসবে, যাও) তোমরা তাকে পাকড়াও করো, এরপর তার গলায় শেকল পরিয়ে দাও,

৩১. অতপর তাকে জাহান্নামের (জ্বলন্ত) আগুনে প্রবেশ করাও,

৩২. তারপর তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে ফেলো; যা সত্তর গজ (লম্বা);

৩৩. কেননা, সে কখনো মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনেনি,

৩৪. সে দুস্থ অসহায় লোকদের খাবার দেয়ার জন্যে (অন্যদের) উৎসাহ দেয়নি;

৩৫. আজকের এ দিনে তার কোনো বন্ধু নেই,

৩৬. (ক্ষতনিসৃত) পুঁজ ছাড়া (আজ তার জন্যে দ্বিতীয়) কোনো খাবারও এখানে থাকবে না,

৩৭. একান্ত অপরাধী ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউই (আজ) তা খাবে না।

৩৮. তোমরা যা কিছু দেখতে পাও আমি তার শপথ করছি,

৩৯. (আরো শপথ করছি) সেসব বস্তুর যা তোমরা দেখতে পাও না,

৪০. নিসন্দেহে এ কিতাব একজন সম্মানিত রসূলের (আনীত) বাণী,

৪১. এটা কোনো কবির কাব্যকথা নয়; অবশ্য তোমরা খুব কমই (এ কথা) বিশ্বাস করো,

৪২. এটা কোনো গণক জ্যোতিষীর কথাও নয়; অবশ্যই তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো;

৪৩. (মূলত) এ কিতাব সৃষ্টিকূলের মালিক আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই (তাঁর রসূলের ওপর) নাযিল করা হয়েছে।

৪৪. সে যদি এ (গ্রন্থ)-টি নিজে বানিয়ে আমার ওপর চালিয়ে দিতো,

৪৫. তাহলে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম,

৪৬. অতপর আমি অবশ্যই তার কণ্ঠনালী কেটে ফেলে দিতাম,

৪৭. (সে অবস্থায়) তোমাদের কেউই তাকে আল্লাহর কাছ থেকে বাঁচাতে পারতো না!

৪৮. (আল্লাহ তায়ালাকে) যারা ভয় করে, এ কিতাব তাদের জন্যে উপদেশ বৈ কিছু নয়!

৪৯. আমি ভালো করেই জানি, তোমাদের একদল লোক এ (কিতাব)-কে মিথ্যা সাব্যস্তকারী হবে।

৫০. এটি হবে কাফেরদের জন্যে গভীর অনুতাপ ও হতাশার কারণ,

৫১. নিসন্দেহে এ মহাগ্রন্থ এক অমোঘ সত্য।

৫২. অতপর (হে নবী,) তুমি তোমার মহান মালিকের নামের পবিত্রতা বর্ণনা করো।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

Sunday, December 8, 2019

সূরা আল-মা’আরিজ [১. সোপানসমূহ বা সিঁড়িসমূহ/আকাশের সোপানসমূহ/ঊর্ধ্বারোহণের সোপানসমূহ/ঊর্ধ্বারোহণের সিঁড়িসমূহ। ২. সর্বোচ্চ মর্যাদা/উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান। ৩. উন্নয়নের সোপান]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৪৪, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৭০, অবতীর্ণের অনুক্রম ৭৯]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. একজন প্রশ্নকর্তা (আল্লাহ তায়ালার) অবধারিত আযাব (দ্রুত) পেতে চাইলো,

২. (এ আযাব হচ্ছে) কাফেরদের জন্যে, তার প্রতিরোধকারী কিছুই নেই,

৩. (এ আযাব আসবে) সমুন্নত মর্যাদার অধিকারী আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে;

৪. ফেরেশতাকুল ও (তাদের নেতা) ‘রূহ’ (জিবরাঈল) আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন একটি দিনে, যার পরিমাণ (তোমাদের) পঞ্চাশ হাজার বছর,

৫. অতএব (হে নবী, কাফেরদের ব্যাপারে) তুমি উত্তম ধৈর্য ধারণ করো।

৬. তারা এ (অবধারিত আযাব)-কে একটি দূরের (ব্যাপার) হিসেবেই দেখতে পায়,

৭. অথচ আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি একেবারে আসন্ন;

৮. যেদিন আসমান হবে গলিত তামার মতো,

৯. আর পাহাড়গুলো হবে (রং বেরংয়ের) ধুনা পশমের মতো,

১০. (সেদিন) এক বন্ধু আরেক বন্ধুর খবর নেবে না,

১১. (অথচ) তারা একজন আরেকজনকে ঠিকই দেখতে পাবে, (সেদিন) অপরাধী ব্যক্তি আযাব থেকে (নিজেকে) বাঁচাতে মুক্তিপণ হিসেবে তার পুত্র সন্তানদের দিতে পারলেও তা দিতে চাইবে,

১২. (দিতে চাইবে) নিজের স্ত্রী এবং নিজের ভাইকেও-

১৩. এবং নিজের পরিবার এমন আপনজনদেরও, যারা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলো,

১৪. ভূমন্ডলের সবকিছুই সে (দিতে চাইবে), তারপরও সে তা থেকে বাঁচতে চাইবে,

১৫. না (কিছুতেই সেদিন বাঁচা যাবে না); জাহান্নাম হচ্ছে একটি প্রজ্বলিত আগুনের লেলিহান শিখা,

১৬. যা চামড়া ও তার আভ্যন্তরীণ মাংসগুলোকে খসিয়ে দেবে,

১৭. (সেদিন) সে (আগুন) এমন সব লোকদের ডাকবে, যারা (দুনিয়ার জীবনে তা থেকে) ফিরে গিয়েছিলো এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলো,

১৮. (যারা বিপুল) ধনরাশি জমা করে তা আগলে রেখেছিলো।

১৯. (আসলে) মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে ভীরু জীব হিসেবে,

২০. যখন তার ওপর কোনো বিপদ আসে তখন সে ঘাবড়ে যায়,

২১. (আবার) যখন তার সচ্ছলতা ফিরে আসে তখন সে কার্পণ্য করতে আরম্ভ করে,

২২. কিন্তু সেসব লোকদের কথা আলাদা যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে-

২৩. যারা নিজেদের নামাযে সার্বক্ষণিকভাবে কায়েম থাকে-

২৪. (যারা বিশ্বাস করে) তাদের সম্পদে সুনির্দিষ্ট অধিকার আছে-

২৫. এমন সব লোকদের জন্যে- যারা (অন্যদের কাছে কিছু) চায় এবং যারা (নানা সুবিধা) বঞ্চিত,
 
২৬. (তারাও নয়-) যারা বিচার দিনের সত্যতা স্বীকার করে,

২৭. (তদুপরি) যারা তাদের মালিকের আযাবকে ভয় করে,

২৮. নিশ্চয়ই তাদের মালিকের আযাবের বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিন্ত (বসে) থাকা যায় না।

২৯. যারা নিজেদের যৌন অংগসমূহের হেফাযত করে,

৩০. অবশ্য নিজেদের স্ত্রীদের কিংবা এমন সব মহিলাদের বেলায় (এটা প্রযোজ্য) নয়, যারা (আল্লাহ তায়ালার অনুমোদিত পন্থায়) তাদের মালিকানাধীন রয়েছে, (এখানে সংযম না করা হলে এ জন্য) কোনো অবস্থায়ই তারা তিরস্কৃত হবে না,

৩১. (এ সীমারেখার) বাইরে যারা (যৌন সম্ভোগের জন্যে) অন্য কিছু পেতে চাইবে, তারা হবে সীমালংঘনকারী,

৩২. যারা তাদের (কাছে রক্ষিত) আমানত ও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,

৩৩. যারা (সত্যের পক্ষে) সাক্ষ্য প্রদানের ব্যাপারে অটল থাকে,

৩৪. (সর্বোপরি) যারা নিজেদের নামাযের হেফাযত করে;

৩৫. (পরকালে) এরাই জান্নাতে মর্যাদা সহকারে অবস্থান করবে;

৩৬. এ কাফেরদের (আজ) কী হলো? এরা কেন ঊর্ধ্বশ্বাসে তোমার সামনে ছুটে আসছে,

৩৭. (ছুটে আসছে) ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে, দলে দলে!

৩৮. তাদের প্রত্যেক ব্যক্তি কি এ (মিথ্যা) আশা পোষণ করে যে, তাকে (আল্লাহর) নেয়মত ভরা জান্নাতে দাখিল করা হবে!

৩৯. না, তা কখনো নয়, আমি তাদের এমন এক (নিকৃষ্ট) জিনিস নিয়ে বানিয়েছি যা তারা জানে।

৪০. আমি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের মালিকের শপথ করছি, অবশ্যই আমি (বিদ্রোহীদের শাস্তি প্রদানে) সক্ষম,

৪১. (আমি সক্ষম) এদের চাইতে উৎকৃষ্ট কাউকে দিয়ে (এদের অবস্থা) বদলে দিতে এবং আমি (এতে মোটেই) অক্ষম নই।

৪২. (হে নবী,) তুমি (বরং) এদের ছেড়ে দাও, এরা কিছুদিন খেল তামাশায় নিমগ্ন থাক- সেদিনটির সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যেদিনের (ব্যাপারে) তাদের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে-

৪৩. সেদিন এরা এমন দ্রুতগতিতে (নিজ নিজ) কবর থেকে বের হয়ে আসবে, (দেখে মনে হবে) তারা (সবাই বুঝি) কোনো শিকারের (লক্ষ্যবস্তুর) দিকে ছুটে চলেছে,

৪৪. তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত, অপমান ও লাঞ্ছনায় তাদের সবকিছু থাকবে আচ্ছন্ন; (তাদের বলা হবে) এ হচ্ছে সেই দিবস, তোমাদের কাছে যেদিনের ওয়াদা করা হয়েছিলো।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।