Wednesday, January 22, 2020

সূরা আল-জুমুআহ

সূরার নামের অর্থঃ

জুমুআহর দিন/শুক্রবার/সমাবেশ/সম্মেলন/(শুক্রবারের) সমবেত প্রার্থনা

[মদীনায় অবতীর্ণ- আয়াত ১১, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬২, অবতীর্ণের অনুক্রম ১১০]
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ তায়ালার মাহাত্ম্য ঘোষণা করছে, তিনি রাজাধিরাজ, তিনি পূত পবিত্র, তিনি মহাপরাক্রমশালী, তিনি প্রবল প্রজ্ঞাময়।

২. তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি (সাধারণ জনগোষ্ঠীর) নিরক্ষর (লোকদের) মাঝে থেকে তাদেরই একজনকে রসূল করে পাঠিয়েছেন, যে তাদের আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শোনাবে, তাদের জীবনকে পবিত্র করবে, তাদের (আসমানী) কিতাবের কথা ও (সে অনুযায়ী দুনিয়ায় চলার) কৌশল শিক্ষা দেবে, অথচ এ লোকগুলোই (রসূল আসার) আগে (পর্যন্ত) এক সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো,

৩. তাদের মধ্যকার সেসব (ব্যক্তির জন্যেও)- যারা এখনো (এসে) এদের সাথে মিলিত হয়নি; তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম কুশলী

৪. এটা (মানুষদের ওপর) আল্লাহ তায়ালার বিরাট অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি এটা দান করেন; আল্লাহ তায়ালা মহা অনুগ্রহশীল।

৫. যাদের (আল্লাহর কিতাব) তাওরাত বহন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো - অতপর তারা কখনো এটা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ হচ্ছে সেই গাধার মতো, যে (কিতাবের) বোঝাই শুধু বহন করলো (এর থেকে কোনো কল্যাণই সে লাভ করতে পারলো না); তার চাইতেও নিকৃষ্ট উদাহরণ সে জাতির, যারা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করলো; আল্লাহ তায়ালা (এ ধরনের) যালেম জাতিকে হেদায়াত করেন না।

৬. (হে রসূল,) তুমি বলো, হে ইহুদীরা, যদি তোমরা মনে করো, অন্য সব লোক বাদে কেবল তোমরাই হচ্ছো আল্লাহর বন্ধু, তাহলে (সে পুরস্কার পাওয়ার জন্যে) তোমরা মৃত্যু কামনা করো- যদি তোমরা সত্যবাদী হও!

৭. (কিন্তু জীবনভর) এরা নিজেদের হাত দিয়ে যা করেছে (তার পরিণাম চিন্তা করে) এরা কখনো মৃত্যু কামনা করবে না; আল্লাহ তায়ালা যালেমদের কার্যকলাপ সম্পর্কে সম্যক অবগত।

৮. (হে নবী,) তুমি বলো, অবশ্যই (তোমাদের) সে মৃত্যু যার কাছ থেকে তোমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছো, (একদিন) তোমাদের তার সামনা সামনি হতেই হবে, তারপর তোমাদের সে মহান সত্তা আল্লাহর দরবারে হাযির করা হবে, যিনি মানুষের দেখা অদেখা যাবতীয় কিছু সম্পকেই জ্ঞান রাখেন, অতপর তিনি সেদিন তোমাদের সবাইকে বলে দেবেন তোমরা দুনিয়ার জীবনে কে কি করছিলে!

৯. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, জুমুয়ার দিনে যখন তোমাদের নামাযের জন্যে ডাক দেয়া হবে তখন তোমরা (নামাযের মাধ্যমে) আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাও এবং (সে সময়ের জন্যে) কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা তা জানো!

১০. অতপর যখন (জুমুয়ার) নামায শেষ হয়ে যাবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো, আর আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করো, আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে।

১১. (এ সত্ত্বেও) এরা যখন কোনো ব্যবসায়িক কাজকর্ম কিংবা ক্রীড়াকৌতুক দেখতে পায়, তখন সেদিকে দ্রুত গতিতে দৌড়ায় এবং তোমাকে (নামাযে) একা দাঁড়ানো অবস্থায় ফেলে যায়; তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালার কাছে যা কিছু রয়েছে তা অবশ্যই খেলাধুলা ও বেচাকেনার চাইতে উৎকৃষ্ট, (মূলত) আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সর্বোত্তম রেযেকতা।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

সূরা আল-মুনাফিকূন

সূরার নামের অর্থঃ

মুনাফিকরা/কপট বিশ্বাসীগণ/ভণ্ড বিশ্বাসীগণ/কপটদল/দ্বিমুখী ব্যক্তিগণ/প্রতারকগণ/ধোঁকাবাজগণ

[মদীনায় অবতীর্ণ- আয়াত ১১, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৩, অবতীর্ণের অনুক্রম ১০৪]
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

. মোনাফেকরা যখন তোমার কাছে আসে, (তখন) তারা বলে (হে মুহাম্মাদ), আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি অবশ্যই আল্লাহর রসূল (হ্যাঁ) আল্লাহ তায়ালা জানেন তুমি নিসন্দেহে তাঁর রসূল; (কিন্তু) আল্লাহ তায়ালা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, মোনাফেকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী,

২. এরা তাদের শপথকে (স্বার্থ উদ্ধারের একটা) চাল বানিয়ে রাখে এবং (এভাবেই) তারা (মানুষদের) আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, কতো নিকৃষ্ট ধরনের কার্যকলাপ যা এরা করছিলো!

৩. এটা এ কারণেই যে, এরা ঈমান আনার পর কুফরী অবলম্বন করেছে, ফলে ওদের মনের ওপর সিল মেরে দেয়া হয়েছে, ওরা (আসলে) কিছুই বুঝতে পারছে না।

৪. তুমি যখন তাদের দেখবে, তখন তাদের (বাইরের) দেহাবয়ব তোমাকে খুশী করে দেবে; আবার যখন তারা তোমার সাথে কথা বলবে তখন তুমি (আগ্রহভরে) তাদের কথা শুনবেও; (এর উদাহরণ হচ্ছে)- যেমন দেয়ালে ঠেকানো কতিপয় (নিষ্প্রাণ) কাঠের টুকরো; (শুধু তাই নয়,) প্রতিটি (বড়ো) আওয়াজকেই তারা মনে করে তাদের ওপর (আপতিত) এটা (বড়ো) বিপদ; এরা আসলেই (তোমাদের) দুশমন, এদের থেকে তোমরা হুশিয়ার থেকো; আল্লাহর মার তো তাদের জন্যেই, (বলতে পারো) কোথায় কোথায় এদের ঠোকর খাওয়ানো হচ্ছে?

৫. এদের যখন বলা হয়, তোমরা এসো (আল্লাহর রসূলের কাছে), তাহলে আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন এরা (অবজ্ঞাভরে) মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং তুমি দেখতে পাবে, তারা অহংকারের সাথে তোমাকে এড়িয়ে চলে।

৬. (আসলে) তুমি এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো কিংবা না করো- (দুটোই) তাদের জন্যে সমান; (কারণ) আল্লাহ তায়ালা কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না; আল্লাহ তায়ালা কোনো গুনাহগার জাতিকে হেদায়াত দান করেন না।

৭. এরা হচ্ছে সেসব লোক, যারা (আনসারদের) বলে, আল্লাহর রসূলের (মোহাজের) সাথীদের জন্যে তোমরা অর্থ ব্যয় করো না, (তাহলে আর্থিক সংকটের কারণে) এরা (রসূলের কাছ থেকে) সরে পড়বে; অথচ (এরা জানে না,) আসমানসমূহ ও যমীনের সমুদয় ধনভান্ডার তো আল্লাহ তায়ালারই, কিন্তু মোনাফেকরা কিছুই বুঝতে পারে না।

৮. তারা বলে, আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখানকার সবল দলটি (মুসলমানদের) দুর্বল দলটিকে সে শহর থেকে অবশ্যই বের করে দেবে; (আসলে) যাবতীয় শক্তি সম্মান তো আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসূল ও (তাঁর অনুসারী) মোমেনদের জন্যে, কিন্তু মোনাফেকরা জানে না!

৯. হে মানুষ, যারা ঈমান এনেছো (দেখো), তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি যেন কখনো তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে দেয়, (কেননা) যারা এ কাজ করবে তারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১০. আমি তোমাদের যা কিছু অর্থ সম্পদ দিয়েছি, তা থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগেই- (মৃত্যু এসে গেলে সে বলবে), হে আমার রব, তুমি যদি আমাকে আরো কিছু কালের অবকাশ দিতে তাহলে আমি তোমার পথে দান করতাম এবং (এভাবেই) আমি তোমার নেক বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যেতাম।

১১. (কিন্তু) কারো (নির্ধারিত) ‘সময়’ যখন এসে যাবে, তখন আল্লাহ তায়ালা কখনোই তাকে (এক মুহূর্ত) অবকাশ দেবেন না; তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) যা কিছু করছো, আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত রয়েছেন।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

Saturday, January 18, 2020

সূরা আত-তাগাবুন

সূরার নামের অর্থঃ

১. পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ও নিজে লাভবান হওয়ার প্রতিযোগীতা/লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিযোগীতা
২. লাভ-লোকসান/জয় পরাজয় (অর্থাৎ, এই দিনটি হবে মুমিনদের জন্যে লাভের, কারণ তারা চূড়ান্তভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং কাফেরদের জন্যে লোকসানের, কারণ তারা চূড়ান্তভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে)
৩. তাগাবুন শব্দটি এসেছে ‘গাবান’ ধাতু থেকে। গাবান অর্থ লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতি। অর্থাৎ, এই দিনে কাফেররা জাহান্নামে প্রবেশের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মুমিনরাও এই দিক দিয়ে লোকসান অনুভব করবে যে, তারা দুনিয়াতে আরো অধিক সৎকর্ম করলে জান্নাতে আরো অধিক মর্যাদার অধিকারী হতে পারতেন।
৪. ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘ইয়াওমুত্তাগা-বুন’ হলো কিয়ামতের একটি নাম (ইবনে কাসীর)।

[মদীনায় অবতীর্ণ- আয়াত ১৮, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৪, অবতীর্ণের অনুক্রম ১০৮]
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ঘোষণা করছে, (যাবতীয়) সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা তাঁর জন্যে, তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

২. তিনিই আল্লাহ তায়ালা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতপর তোমাদের কিছু লোক (এ কথা বিশ্বাস করে) মোমেন হয়ে গেলো আবার কিছু লোক (অবিশ্বাস করে) কাফের থেকে গেলো; (আসলে) তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা তা দেখেন।

৩. তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সঠিকভাবে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি তোমাদের (মানুষের) আকৃতি দিয়েছেন, অতি সুন্দর করে তিনি তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন, তাঁর কাছেই (তোমাদের) প্রত্যাবর্তন।

৪. আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন, তিনি জানেন তোমরা যা কিছু গোপন করো, আর যা কিছু প্রকাশ করো; আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মনের কথা জানেন।

৫. তোমাদের কাছে কি সেসব লোকের খোঁজ খবর কিছুই পৌঁছেনি যারা এর আগে (বিভিন্ন নবীর সময়ে) কুফরী করেছিলো, অতপর তারা (দুনিয়াতেই) নিজেদের কর্মফল ভোগ করে নিয়েছে, তাদের জন্যে (পরকালেও) কঠোর যন্ত্রণাদায়ক আযাব রয়েছে।

৬. (এটা) এ কারণে যে, তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ নিয়ে যখনি (আল্লাহর) কোনো রসূল আসতো তখনি তারা বলতো, (কতিপয়) মানুষই কি আমাদের পথের সন্ধান দেবে? অতএব তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করলো এবং তারা মুখ ফিরিয়ে নিলো, অবশ্য আল্লাহ তায়ালার (তাদের কাছ থেকে) কিছুই পাওয়ার ছিলো না, আল্লাহ তায়ালা কারোই মুখাপেক্ষী নন, তিনি চির প্রশংসিত।

৭. কাফেররা ধারণা করে নিয়েছে যে, একবার মরে গেলে কখনো তাদের পুনরুত্থিত করা হবে না; তুমি বলো, না- তা কখন নয়; আমার মালিকের শপথ, অবশ্যই মৃত্যুর পর তোমাদের সবাইকে কবর থেকে ওঠানো হবে এবং তোমাদের বলে দেয়া হবে তোমরা কি কাজ করে এসেছো; আর আল্লাহ তায়ালার পক্ষে এটা অত্যন্ত সহজ।

৮. অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসূল এবং আমি (কোরআনের আকারে) যে আলো (তোমাদের জন্যে) নাযিল করেছি তার ওপর ঈমান আনো; (জেনে রেখো) তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা তা ভালো করেই জানেন।

৯. যেদিন তোমাদের (সবাইকে) মহাসমাবেশের দিনটির জন্যে একত্র করা হবে, (সেদিন বলা হবে), আজকের দিনটিই হচ্ছে (আসল) লাভ লোকসানের দিন; (লাভের দিন তার জন্যে) যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, তিনি (আজ) তার গুনাহ মোচন করে দেবেন এবং তাকে তিনি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, তারা সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করবে; (আর) এটাই হচ্ছে (সেদিনের) পরম সাফল্য।

১০. (লোকসানের দিন তাদের জন্যে,) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, এরা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে; কতো নিকৃষ্ট সে আবাসস্থল!

১১. আল্লাহ তায়ালার অনুমতি ব্যতীত (কারো ওপর) কোনো বিপদই আসে না; যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন; আর আল্লাহ তায়ালা সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছেন।

১২. তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের, তোমরা যদি (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে (জেনে রেখো), আমার রসূলের ওপর দায়িত্ব (হচ্ছে আমার কথাগুলো) সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।

১৩. আল্লাহ তায়ালা (মহান), তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, অতএব ঈমানদার বান্দাদের উচিত সকল বিষয়ে আল্লাহর ওপরই নির্ভর করা।

১৪. হে ঈমানদাররা, অবশ্যই তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান সন্ততিদের মাঝে তোমাদের (কিছু) দুশমন রয়েছে, অতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সতর্ক থেকো, অবশ্য তোমরা যদি (তাদের) অপরাধ ক্ষমা করে দাও, তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করো এবং তাদের মাফ করার নীতি অবলম্বন করো, তবে আল্লাহ তায়ালা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

১৫. তোমাদের ধন সম্পদ ও তোমাদের সন্তান সন্ততি (তোমাদের জন্যে) পরীক্ষা মাত্র; (পরীক্ষায় সফল হতে পারলে) অবশ্যই (এর জন্যে) আল্লাহ তায়ালার কাছে মহাপুরস্কার রয়েছে।

১৬. অতএব তোমরা সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, তোমরা (রসূলের আদেশ) শোনো এবং (তাঁর) কথামতো চলো, আল্লাহর দেয়া ধন সম্পদ থেকে (তাঁরই উদ্দেশ্যে) খরচ করো, এটি তোমাদের নিজেদের জন্যেই কল্যাণকর; যে ব্যক্তিকে তার মনের লোভ লালসা থেকে রেহাই দেয়া হয়েহে (সে এবং তার মতো) লোকেরাই হচ্ছে সফলকাম।

১৭. যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ঋণ দাও- উত্তম ঋণ, তাহলে তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তিনি তোমাদের (গুনাহ খাতা) মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা বড়োই গুণগ্রাহী ও পরম ধৈর্যশীল,

১৮. তিনি জানেন দেখা-অদেখা (সব কিছুই), তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

সূরা আত-তালাক

সূরার নামের অর্থঃ

তালাক/বিবাহবিচ্ছেদ/বন্ধনমুক্তি

[মদীনায় অবতীর্ণ- আয়াত ১২, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৫, অবতীর্ণের অনুক্রম ৯৯]
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. হে নবী, (সাথীদের বলো), যখন তোমরা (তোমাদের) স্ত্রীদের তালাক দাও (বা দিতে ইচ্ছা করো), তখন তাদের ইদ্দতের (অপেক্ষার সময়ের) প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিয়ো, ইদ্দতের যথার্থ হিসাব রেখো, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের রব, ইদ্দতের সময় (কোনো অবস্থায়ই) তাদের নিজেদের বসতবাড়ি থেকে বের করে দিয়ো না, তারা নিজেরাও যেন (এ সময়) তাদের ঘর থেকে বের হয়ে না যায়, তবে যদি তারা কোনো জঘন্য অশ্লীলতা (জনিত অপরাধে অপরাধী) হয়ে আসে (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা।) এগুলো হচ্ছে আল্লাহর সীমারেখা; যে ব্যক্তি আল্লাহর এ সীমারেখা অতিক্রম করে সে (মূলত এর দ্বারা) নিজের ওপর নিজেই যুলুম করে। তুমি তো জানো না এর পর আল্লাহ তায়ালা হয়তো (পুনরায় তোমাদের মাঝে সহৃদয়তার কোনো) একটা পথ বের করে দেবেন।

২. অতপর যখন তারা তাদের (ইদ্দতের) সে নির্ধারিত সময়ে (-র শেষ প্রান্তে) উপনীত হয়, তখন তাদের হয় সম্মানজনক পন্থায় (বিয়ে বন্ধনে) রেখে দেবে, না হয় সম্মানের সাথে তাদের আলাদা করে দেবে এবং (উভয় অবস্থায়ই) তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে তোমরা সাক্ষী বানিয়ে রাখবে, (সাক্ষীদেরও বলো) তোমরা শুধু আল্লাহর জন্যেই (এ) সাক্ষ্য দান করবে; যারা আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান আনে, তাদের সবাইকে এর দ্বারা উপদেশ দেয়া হচ্ছে; যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে, তিনি তার জন্যে (সংকট উত্তরণের) একটা পথ তৈরী করে দেন-

৩. এবং তিনি তাকে এমন জায়গা থেকে রেযেক দান করেন যার (উৎস) সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই; যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট; (কেননা) আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের কাজ পূর্ণ করেই নেন; আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি জিনিসের জন্যেই একটি পরিমাণ ঠিক করে রেখেছেন।

৪. তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে যারা ঋতুবতী হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, তাদের (ইদ্দতের) ব্যাপারে তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকলে (তোমরা জেনে রেখো,) তাদের ইদ্দত হচ্ছে তিন মাস, (এ তিন মাসের বিধান) তাদের জন্যেও, যাদের এখনও ঋতুকাল শুরুই হয়নি; গর্ভবতী নারীর ইদ্দতকাল হচ্ছে তার সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত;  (বস্তুত) কেউ যদি আল্লাহকেই ভয় করে, তাহলে (নানাভাবে) তিনি তার জন্যে তার কাজকে সহজ করে দেন।

৫. (তালাক ও ইদ্দতের ব্যাপারে) এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার আদেশ, যা তিনি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার গুনাহখাতা মুছে দেবেন এবং তিনি তার পুরস্কারকেও বড়ো করে দেবেন।

৬. (ইদ্দতের সময়ে) তোমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী তাদের সে ধরনের বাড়িতে থাকতে দিয়ো- যে ধরনের বাড়িতে তোমরা নিজেরা থাকো, কোনো অবস্থায়ই সংকট সৃষ্টি করার মতলবে তাদের কষ্ট দিয়ো না; আর যদি তারা সন্তানসম্ভবা হয়, তাহলে (ইদ্দতের নিয়ম অনুযায়ী) তারা সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত তাদের খোরপোষ দিতে থাকো, (সন্তান জন্মদানের পর) যদি তারা তোমাদের সন্তানদের (নিজেদের) বুকের দুধ খাওয়ায়, তাহলে তোমরা (সে জন্যে) তাদের পারিশ্রমিক আদায় করে দেবে এবং (এ ব্যাপারটা) তোমরা ভালোভাবে নিজেদের মধ্যে ন্যায়সংগত পন্থায় সমাধান করে নেবে, যদি তোমরা একে অন্যের সাথে জেদ করো, তাহলে অন্য একজন (মহিলা) এ সন্তানকে দুধ খাওয়াবে;

৭. বিত্তশালী ব্যক্তি তার সংগতি অনুযায়ী (স্ত্রীদের) খোরপোষ দেবে; আবার যে ব্যক্তির অর্থনৈতিক সংগতি সীমিত করে দেয়া হয়েছে সে ব্যক্তি ততোটুকু পরিমাণই খোরপোষ দেবে যতোটুকু আল্লাহ তায়ালা তাকে দান করেছেন; আল্লাহ তায়ালা যাকে যে পরিমাণ সামর্থ দান করেছেন তার বাইরে কখনো (কোনো) বোঝা তার ওপর তিনি চাপান না; (আল্লাহর ওপর নির্ভর করলে) আল্লাহ তায়ালা (তাকে) অচিরেই অভাব অনটনের পর সচ্ছলতা দান করবেন।

৮. কতো জনপদের মানুষই তো নিজেদের রব ও তাঁর রসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো, অতপর আমি তাদের কাছ থেকে (সে জন্যে) কঠিন হিসাব আদায় করে নিয়েছি এবং আমি ওদের কঠোর শাস্তি দিয়েছি।

৯. এরপর তারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করলো, (মূলত) তাদের (এ) কাজের পরিণাম ফল (ছিলো) চরম ক্ষতি।

১০. আল্লাহ তায়ালা (পরকালে) তাদের জন্যে এক কঠিন আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন, অতএব (হে মানুষ), তোমরা যারা জ্ঞানসম্পন্ন, তোমরা যারা (আল্লাহ তায়ালার ওপর) ঈমান এনেছো- তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কাছে অবশ্যই (তাঁর) উপদেশবাণী নাযিল করেছেন,

১১. (তিনি) রসূল (পাঠিয়েছেন), যে (রসূল) তোমাদের আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শোনায়, যাতে করে সে তোমাদের- যারা ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে তাদের (জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে (হেদায়াতের) আলোতে নিয়ে আসতে পারে; তোমাদের যে কেউই আল্লাহর ওপর ঈমান আনে এবং ভালো কাজ করে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন- (এমন এক জান্নাত)-যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে; এমন লোকের জন্যে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা উত্তম রেযেকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

১২. আল্লাহ তায়ালা- যিনি সাত আসমান ও তাদের অনুরূপ সংখ্যক যমীন সৃষ্টি করেছেন; (আবার) উভয়ের মাঝখানে (যা আছে তাদের জন্যে) তাঁর নির্দেশ জারি হয়, যাতে করে তোমরা একথা অনুধাবন করতে পারো যে, (আকাশ পাতালের) সকল কিছুর ওপর আল্লাহ তায়ালাই (একক) ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞান (এ সৃষ্টিলোকের) প্রতিটি বস্তুকেই পরিবেষ্টন করে রেখেছে।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

Wednesday, January 8, 2020

সূরা আত-তাহরীম [হারামকরণ/নিষিদ্ধকরণ]

[মদীনায় অবতীর্ণ- আয়াত ১২, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬৬, অবতীর্ণের অনুক্রম ১০৭]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

. হে নবী, আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্যে যা হালাল করেছেন তা তুমি (কসম করে) নিজের ওপর কেন হারাম করছো, তুমি কি (এর মাধ্যমে) তোমার স্ত্রীদের খুশী কামনা করতে চাও? (আসলে) আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন ক্ষমার আধার, পরম দয়ালু।

. আল্লাহ তায়ালা তো তোমাদের শপথ থেকে রেহাই পাবার জন্যে (কাফফারার) একটা পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, (মূলত) আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের একমাত্র সহায়, তিনিই সর্বজ্ঞ, তিনিই প্রজ্ঞাময়।

. যখন নবী তার স্ত্রীদের একজনকে চুপিসারে কিছু একটা কথা বললো এবং সে যখন (তা অন্যদের কাছে) প্রকাশ করে দিলো, তখন আল্লাহ তায়ালা তার এ বিষয়টা নবীকে (ওহীর মাধ্যমে) জানিয়ে দিলেন, রসূল কিছু কথা (গোপনীয় বিষয় প্রকাশকারী স্ত্রীকে) জানিয়ে দিলো, (আবার) কিছু কথা এড়িয়েও গেলো, অতপর নবী যখন তার সে স্ত্রীকে সে বিষয়টা জানালো, তখন সে বললো, আপনাকে এ খবরটা কে জানালো; নবী বললো, আমাকে জানিয়েছেন (সেই মহান আল্লাহ তায়ালা), যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক জ্ঞাত।

. (যে দু’জন স্ত্রী এর সাথে জড়িত, নবী তাদেয় উভয়কে ডেকে বললো,) তোমরা দু’জন যদি আল্লাহর কাছে তাওবা করো- (তাহলে তা তোমাদের জন্যে ভালো) কেননা তোমাদের উভয়ের মন অন্যায় ও বাঁকা পথের দিকে (কিছুটা) ঝুঁকে পড়েছিলো, আর যদি তোমরা উভয়ে তার বিরুদ্ধে একে অপরের পৃষ্ঠপোষকতা করো (তাহলে জেনে রাখো), আল্লাহ তায়ালাই তাঁর (নবীর) সহায়, তাছাড়াও তাঁর সাথে রয়েছে জিবরাঈল (ফেরেশতা) ও নেককার মুসলমানের দল, এরপরও সমগ্র ফেরেশতা তার সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

. (আজ) নবী যদি তোমাদের তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাঁর মালিক তোমাদের বদলে এমন সব স্ত্রী তাকে দিতে পারেন, যারা তোমাদের চাইতে হবে উত্তম, যারা হবে আত্মসমর্পণকারী, বিশ্বস্ত, ফরমাবরদার, অনুশোচনাকারী, অনুগত, রোযাদার-(হতে পারে তারা) কুমারী, (হতে পারে) অকুমারী।

. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা নিজেদের ও নিজেদের পরিবার পরিজনদের (জাহান্নামের সেই কঠিন) আগুন থেকে বাঁচাও, তার জ্বালানি হবে মানুষ আর পাথর, (সে) জাহান্নামের (প্রহরা যাদের) ঔপর (অর্পিত), সেসব ফেরেশতা সবাই হচ্ছে নির্মম ও কঠোর, তারা আল্লাহর কোনো আদেশই অমান্য করবে না, তারা তাই করবে যা তাদের করার জন্যে আদেশ করা হবে।

. হে কাফেররা, আজ তোমরা (দোষ ছাড়ানোর জন্যে) কোনো রকম অজুহাত তালাশ করো না; (আজ) তোমাদের সে বিনিময়ই দেয়া হবে যা তোমরা দুনিয়ায় করছিলে!

. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা (গুনাহ খাতায় জন্যে) আল্লাহর দরবারে তাওবা করো- একান্ত খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় (এর ফলে) তোমাদের রব তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং এর বিনিময়ে (পরকালে) তিনি তোমাদের এমন (সুরম্য) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে (সুপেয়) ঝর্ণাধারা, সেদিন আল্লাহ তায়ালা (তাঁর) নবী এবং তার সাথী ঈমানদারদের অপমানিত করবেন না, (সেদিন) তাদের (ঈমানের) জ্যোতি তাদের সামনে ও তাদের ডান পাশ দিয়ে (বিচ্ছুরিত হবে,) তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্যে আমাদের (ঈমানের) জ্যোতিকে পূর্ণ করে দাও, তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, অবশ্যই তুমি সব কিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান।

. হে নবী, তুমি কাফের ও মোনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করো এবং তাদের ওপর কঠোরতা অবলম্বন করো; (কেননা) তাদের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম; আর তা (হচ্ছে) এক নিকৃষ্ট ঠিকানা।

১০. আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের জন্যে নূহ ও লূতের স্ত্রীদের উদাহরণ পেশ করছেন; তারা দু’জনই ছিলো আমার দু’জন নেক বান্দার অধীনস্থ স্ত্রী, কিন্তু তারা উভয়েই সে দু’জন বান্দার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, অতএব আল্লাহর (আযাব) থেকে তারা (নবী হওয়া সত্ত্বেও) কিছুই এদের বাঁচাতে পারলো না, বরং (তাদের) বলা হলো, তোমরা (আজ) প্রবেশ করো জাহান্নামের আগুনে- যারা এখানে প্রবেশ করেছে তাদের সবার সাথে।

১১. (একইভাবে) আল্লাহ তায়ালা মোমেনদের জন্যে ফেরাউনের স্ত্রীকে (অনুকরণযোগ্য) এক উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন, (সে প্রার্থনা করেছিলো) হে রব, জান্নাতে তোমার পাশে তুমি আমার জন্যে একখানা ঘর বানিয়ে দিয়ো, আর (দুনিয়ার এ ঘরে) তুমি আমাকে ফেরাউন ও তার (যাবতীয়) কর্মকান্ড থেকে বাঁচিয়ে রেখো, তুমি আমাকে এ যালেম সম্প্রদায় (-এর যাবতীয় অনাচার) থেকে উদ্ধার করো।

১২. (আল্লাহ তায়ালা মোমেননের জন্যে দৃষ্টান্ত পেশ করছেন) ইমরানের মেয়ে মারইয়ামের, যে (আজীবন) তার সতীত্ব রক্ষা করেছে, অতপর আমি আমার (সৃষ্ট) রুহগুলো থেকে একটি (রুহ) তার মধ্যে ফুঁকে দিলাম, সে তার মালিকের কথা ও তাঁর (প্রেরিত) কিতাবসমূহের ওপর পুরোপুরিই বিশ্বাস স্থাপন করেছে; (সত্যিই) সে ছিলো আমার একান্ত অনুগত বান্দাদেরই একজন!

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।