Monday, July 29, 2019

সূরা আত-তাকউইর [গুটিয়ে নেয়া/গুটিয়ে নিয়ে আলোহীন করা]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ২৯, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮১, অবতীর্ণের অনুক্রম ০৭]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-

. যখন সূর্যকে গুটিয়ে ফেলা হবে,

. যখন তারাগুলো একে একে খসে পড়বে,

. যখন পর্বতমালাকে (আপন আপন স্থান থেকে) সরিয়ে দেয়া হবে,

. যখন দশ মাসের গর্ভবতী উটনীকে (নিজের অবস্থার ওপর) ছেড়ে দেয়া হবে,

. যখন হিংস্র জন্তুগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করা হবে,

. যখন সাগরসমূহকে (আগুন দ্বারা) প্রজ্বলিত করা হবে,

. যখন (কবর থেকে উত্থিত) প্রাণসমূহকে (নিজ নিজ) দেহের সাথে জুড়ে দেয়া হবে,

. যখন সদ্যপ্রসূত মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করা হবে-

. কোন্ অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো,

১০. যখন আমলের নথিপত্র খোলা হবে,

১১. যখন আসমান খুলে দেয়া হবে,

১২. যখন জাহান্নাম প্রজ্বলিত করা হবে,

১৩. যখন জান্নাতকে (মানুষের) কাছে নিয়ে আসা হবে,

১৪. (তখন) প্রত্যেক ব্যক্তিই জানতে পারবে সে কি জিনিস (আল্লাহ তায়ালার কাছে) হাযির করেছে;

১৫. আমি শপথ করছি সেসব তারকাপুঞ্জের যা (চলতে চলতে) গা ঢাকা দেয়,

১৬. (আবার মাঝে মাঝে) যা অদৃশ্য হয়ে যায়,

১৭. (শপথ) রাতের যখন তা নিশেষ হয়ে যায়,

১৮. (শপথ) সকাল বেলার যখন তা (দিনের আলোয়) নিশ্বাস নেয়,

১৯. এ (কোরআন) হচ্ছে সম্মানিত (ও মর্যাদাসম্পন্ন) বাহকের (পৌঁছানো) বাণী,

২০. শক্তিশালী, আরশের মালিক আল্লাহ তায়ালার কাছে তার অবস্থান (অনেক মর্যাদাপূর্ণ),

২১. যেখানে তাকে মান্য করা হয়, (অতপর) সে সেখানে গভীর আস্থাভাজনও;

২২. তোমাদের সাথী (কিন্তু) পাগল নয়,

২৩. সে তাকে স্বচ্ছ দিগন্তে দেখেছে,

২৪. অদৃশ্য জগতের (কথা পৌঁছানোর) ব্যাপারে সে কখনো কার্পণ্য করে না,

২৫. এটা কোনো অভিশপ্ত শয়তানের কথাও নয়,

২৬. অতএব তোমরা (কোরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে) কোন দিকে যাচ্ছো?

২৭. এটা সৃষ্টিকুলের জন্যে এক উপদেশ বৈ কিছুই নয়,

২৮. যে সঠিক পথ ধরে চলতে চায় (এটি শুধু) তার জন্যেই (উপদেশ);

২৯. (আসলে) তোমরা তো কিছুই চাইতে পারো না, হ্যাঁ চাইতে পারেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, তিনি সৃষ্টিকুলের মালিক

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

সূরা আল-ইনফিতার [বিদীর্ণ করা/ফাটিয়া যাওয়া]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ১৯, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮২, অবতীর্ণের অনুক্রম ৮২]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-

. যখন আসমান ফেটে পড়বে,

. যখন তারাগুলো সব ঝরে পড়বে,

. যখন সাগরকে উত্তাল করে তোলা হবে,

. যখন কবরগুলো উপড়ে ফেলা হবে,

. (তখন) প্রতিটি মানুষই জেনে যাবে, সে (এখানকার জন্যে) কি পাঠিয়েছে এবং কি (এমন) কাজ সে রেখে এসেছিলোঃ (যার পাপ পুণ্য কেয়ামত পর্যন্ত তার হিসেবে জমা হয়েছে);

. হে মানুষ, কোন্ জিনিসটি তোমাকে তোমার মহামহিম মালিকের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলে রাখলো?

. যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি তোমাকে সোজা সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুসামঞ্জস করেছেন,

. তিনি যেভাবে চেয়েছেন সে আংগিকেই তোমাকে গঠন করেছেন;

. না- (এ কি!) তোমরা শেষ বিচারের দিনটিকেই অস্বীকার করছো!

১০. অবশ্যই তোমাদের ওপর পাহারাদার নিযুক্ত আছে,

১১. এরা (হচ্ছে) সম্মানিত লেখক,

১২. তারা জানে তোমরা যা কিছু করছো।

১৩. নিসন্দেহে নেক লোকেরা (সেদিন আল্লাহর) অসীম নেয়ামতে (পরমানন্দে) থাকবে,

১৪. আর অবশ্যই পাপী-তাপীরা থাকবে জাহান্নামে,

১৫. শেষ বিচারের দিন তারা (সবাই ঠিকমতো) সেখানে পৌঁছে যাবে।

১৬. সেখান থেকে তারা আর কোনোদিনই অদৃশ্য থাকবে না;

১৭. তুমি কি জানো? শেষ বিচারের দিনটি কি?

১৮. তুমি কি (আসলেই) জানো, সে দিনটি কি?

১৯. যেদিন কোনো মানুষই একজন আরেক জনের কাজে আসবে না; সেদিন ফয়সালার (চূড়ান্ত) ক্ষমতা থাকবে আল্লাহ তায়ালার হাতে।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

সূরা আল-মুতাফ্‌ফিফীন অথবা সূরা আত-তাতফীফ [প্রতারকগণ/ঠকবাজ ব্যক্তিরা অথবা প্রতারণা করা/জালিয়াতি করা/মাপে কম করা]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৩৬, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৩, অবতীর্ণের অনুক্রম ৮৬]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-

. দুর্ভোগ তাদের জন্যে যারা মাপে কম দেয়,

. যারা মানুষদের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পুরোপুরি আদায় করে,

. (আবার) নিজেরা যখন (অন্যের জন্যে) ওযন কিংবা পরিমাপ করে তখন কম দেয়;

. এরা কি ভাবে না (বিচারের জন্যে) তাদের (একদিন কবর থেকে) তুলে আনা হবে?

. (আনা হবে) এক বড়ো দিবসের জন্যে,

. সেদিন সমগ্র মানুষ সৃষ্টিকুলের মালিকের সামনে এসে দাঁড়াবে;

. কখনো না, গুনাহগারদের আমলনামা থাকবে ‘সিজ্জীনে’;

. তুমি কি জানো (সে) সিজ্জীনটা কি?

. (এটা হচ্ছে) সীল করা (একটা) বই;

১০. (সেদিন) মিথ্যা সাব্যস্তকারীদের জন্যে চূড়ান্ত ধ্বংস অবধারিত-

১১. যারা শেষ বিচারের () দিনটিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে;

১২. (আসলে) প্রতিটি সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কেউই এ (বিচার দিনটি)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করে না,

১৩. যখন তার সামনে আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয় তখন সে বলে, এগুলো হচ্ছে নিছক আগের কালের গল্পগাথা;

১৪. কখনো নয়, বরং এদের কৃতকর্ম এদের মনের ওপর ঝং ধরিয়ে রেখেছে।

১৫. কখনো না, অবশ্যই এসব পাপীদের সেদিন তাদের মালিকের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হবে;

১৬. অতপর তারা অবশ্যই জাহান্নামের আগুনে গিয়ে প্রবেশ করবে;

১৭. তারপর (তাদের) বলা হবে, এ হচ্ছে (সেই জাহান্নাম) যাকে তোমরা মিথ্যা সাব্যস্ত করতে;

১৮. কখনো না, নেককার লোকদের আমলনামা রক্ষিত থাকবে ইল্লিয়্যীনে;

১৯. তুমি কি জানো- ‘ইল্লিয়্যীন’-টাই বা কি?

২০. (এটা হচ্ছে) একটি সীল করা বই,

২১. (আল্লাহ তায়ালার) নিকটতম ফেরেশতারা তা তদারক করেন;

২২. নিসন্দেহে নেককার লোকেরা মহা নেয়ামতে থাকবে,

২৩. সুসজ্জিত আসনে বসে এরা (সবকিছু) অবলোকন করবে,

২৪. তুমি এদের চেহারায় নেয়ামতের (তৃপ্তি ও) সজীবতা (সহজেই) চিনতে পারবে;

২৫. ছিপি আঁটা (বোতল) থেকে এদের (সেদিন) বিশুদ্ধতম পানীয় পান করানো হবে,

২৬. কস্তুরীর সুগন্ধি দিয়ে যার মুখ বন্ধ (করে দেয়া হয়েছে); অতএব এর জন্যে সকল উৎসাহীর উৎসাহী হওয়া উচিত;

২৭. (তাতে) তাসনীমের (ফল্গুধারার) মিশ্রণ থাকবে,

২৮. (তাসনীম) এমন একটি ঝর্ণাধারা- (আল্লাহ তায়ালার) নৈকট্যলাভকারীরাই সেদিন এ (পানীয়)টা পান করবে;

২৯. অবশ্যই যারা অপরাধ করেছে তারা এমন লোক যারা ঈমানদারদের সাথে বিদ্রুপ করতো,

৩০. (দুনিয়ায়) তারা যখন এদের পাশ দিয়ে আসা যাওয়া করতো, তখন এরা নিজেদের মধ্যে তাদের ব্যাপারে চোখ টেপাটেপি করতো,

৩১. যখন এরা নিজেদের লোকদের কাছে ফিরে যেতো, তখন খুব উৎফুল্ল হয়েই সেখানে ফিরতো,

৩২. তারা যখন এদের দেখতো তখন একে অপরকে বলতো, এরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট,

৩৩. (অথচ) এদেরকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি;

৩৪. আজ ঈমানদার ব্যক্তিরাই কাফেরদের ওপর (নেমে আসা আযাব দেখে) হাসবে,

৩৫. (উঁচু) উঁচু আসনে বসে তারা (এসব) দেখতে থাকবে;

৩৬. (তোমার কি মনে হয়) কাফেরদের কি তাদের কর্ম অনুযায়ী বিনিময় দেয়া হবে না?

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

সূরা আল-ইনশিকাক [খণ্ড-বিখণ্ডকরণ/ফেটে চূর্ণ বিচূর্ণ হওয়া]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ২৫, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৪, অবতীর্ণের অনুক্রম ৮৩]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-

. যখন আসমান ফেটে যাবে,

. সে তার মালিকের আদেশটুকুই (তখন) পালন করবে এবং এটাই তো তাকে করতে হবে,

. যখন এ ভূমন্ডলকে সম্প্রসারিত করা হবে,

. (মুহূর্তের মধ্যেই) সে তার ভেতরে যা আছে তা ফেলে দিয়ে খালি হয়ে যাবে,

৫. সেও (তখন) তার সৃষ্টিকর্তার আদেশটুকুই পালন করবে এবং এটাই তো তাকে করতে হবে;

. হে মানুষ, তুমি (এক) কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তোমার সৃষ্টিকর্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছো, অতপর তুমি (সত্যি সত্যিই এক সময়) তাঁর সামনাসামনি হবে,

. (তোমাদের মধ্যে) যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে,

. অচিরেই একান্ত সহজভাবে তার হিসাব গ্রহণ করা হবে,

. সে খুশীতে নিজ পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যাবে:

১০. আর যার আমলনামা তার পেছন দিক থেকে দেয়া হবে,

১১. সে তখন মৃত্যুকেই ডাকতে থাকবে,

১২. সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে;

১৩. অবশ্যই সে (দুনিয়ার জীবনে) নিজ পরিবার পরিজনের মাঝে আনন্দে আত্মহারা ছিলো;

১৪. সে ভেবেছিলো, তাকে কখনো (তার মালিকের কাছে) ফিরে যেতে হবে না,

১৫. হ্যাঁ, তাই (হলো), তার মালিক তার সব কার্যকলাপ (পুংখানুপুংখভাবে) দেখছিলেন;

১৬. শপথ সান্ধ্যকালীন রক্তিম আভার-

১৭. এবং শপথ রাতের ও এর ভেতর যতো কিছুর সমাবেশ ঘটে তার-

১৮. আরো শপথ (ওই) চাঁদটির, যখন তা (ধীরে ধীরে) পূর্ণাংগ চাঁদে পরিণত হয়ে যায়,

১৯. তোমাদের অবশ্যই (দুনিয়ার) একটি স্তর অতিক্রম করে (মৃত্যুর) আরেকটি স্তরের দিকে এগিয়ে যেতে হবে;

২০. এদের কি হয়েছে? এরা কেন (মহান আল্লাহর ওপর) ঈমান আনে না,

২১. যখন এদের সামনে কোরআন পড়া হয়, তখন এরা (কেন মালিকের সামনে) সাজদাবনত হয় না?

২২. বরং যারা অস্বীকার করে, তারাই একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে,

২৩. আর আল্লাহ তায়ালা ভালো করেই জানেন (আমলনামায়) তারা কি জমা করছে?

২৪. (হে নবী,) তাদের সবাইকে তুমি এক যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও,

২৫. তবে তাদের কথা আলাদা, যারা (আল্লাহর ওপর) ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের জন্যে অফুরন্ত পুরস্কার রয়েছে

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

সূরা আল-বুরুজ [নক্ষত্রপুঞ্জ/বিশাল বিশাল গ্রহ-নক্ষত্র/রাশিচক্র/গম্বুজ/দুর্গ]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ২২, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৫, অবতীর্ণের অনুক্রম ২৭]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-

. শপথ (বিশালকায়) গম্বুজবিশিষ্ট আকাশের,

. (শপথ) সে দিনের যার আগমনের ওয়াদা করা হয়েছে,

. শপথ (প্রত্যক্ষদর্শী) সাক্ষীর, শপথ যা কিছু (তখন) পরিদৃষ্ট হয়েছে- তার;

. (মোমনদের জন্যে খোঁড়া) গর্তের লোকদের ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে-

. (ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে) আগুনের কুন্ডলী- যা জ্বালানি দ্বারা পরিপূর্ণ ছিলো,

. (বিশেষ করে) যখন তারা নিজেরা তার পাশে বসা ছিলো,

. এ লোকেরা মোমেনদের সাথে যা করছিলো এরা তা প্রত্যক্ষ করছিলো;

. তারা এ (ঈমানদার)-দের কাছ থেকে এ ছাড়া অন্য কোনো কারণে প্রতিশোধ গ্রহণ করেনি যে, তারা এক পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিলো,

. (এমন এক সত্তার ওপর,) যার জন্যে (নিবেদিত) আসমানসমূহ ও যমীনের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব; আর আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন (তাদের) সকল কাজের সাক্ষী;

১০. অবশ্যই যারা মোমেন নর-নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে, অতপর তারা কখনো তাওবা করেনি, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব এবং তাদের জন্যে রয়েছে (আগুনে) জ্বলে-পুড়ে যাওয়ার ভয়ানক শাস্তি;

১১. অবশ্যই যারা (আল্লাহ তায়ালার ওপর) ঈমান এনেছে এবং (সে অনুযায়ী) ভালো কাজ করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে এমন জান্নাত- যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত; সেটাই হচ্ছে (সেদিনের) সবচেয়ে বড় সাফল্য;

১২. নিসন্দেহে তোমার মালিকের পাকড়াও হবে ভীষণ শক্ত;

১৩. অবশ্যই তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, (এমনি করে) তিনি আবারও সবাইকে সৃষ্টি করবেন,

১৪. তিনি পরম ক্ষমাশীল, (তাঁর সৃষ্টিকে) তিনি অত্যন্ত ভালোবাসেন,

১৫. মহা সম্মানিত আরশের তিনি অধিপতি,

১৬. তিনি যা চান তাই করেন;

১৭. তোমার কাছে কি কতিপয় (বিদ্রোহী) সেনাদলের কথা পৌঁছেছে?

১৮. (তারা হচ্ছে) ফেরাউন ও সামুদ (-এর বাহিনী)!

১৯. এরা (কিন্তু সত্য) বিশ্বাস করেনি, (তারা) মিথ্যা সাব্যস্তকরণেই (ব্যস্ত) ছিলো,

২০. আল্লাহ তায়ালা এদের সকল দিক থেকেই ঘিরে রেখেছেন;

২১. কোরআন হচ্ছে (উন্নত ও) মহামর্যাদাসম্পন্ন (এক গ্রন্থ);

২২. (সম্মানিত) ফলকে (যা) সংরক্ষিত আছে

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

সূরা আত-তারিক [রাতের আগন্তুক/রাতে আত্নপ্রকাশকারী/রাতে আগমনকারী]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ১৭, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৬, অবতীর্ণের অনুক্রম ৩৬]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. শপথ আসমানের, শপথ রাতের বেলায় আত্মপ্রকাশকারী (তারকা)-র,

২. তুমি কি জানো সে আত্মপ্রকাশকারী কি?

৩. তা হচ্ছে (একটি) সমুজ্জ্বল তারকা,

৪. (যমীনের) এমন একটি প্রাণীও নেই যার ওপর কোনো তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত (করা) হয়নি;

৫. মানুষ যেন তাকিয়ে দেখে- তাকে কোন্ জিনিস দিয়ে বানানো হয়েছে;

৬. তাকে বানানো হয়েছে সবেগে স্থলিত (এক ফোঁটা) পানি থেকে-

৭. যা বের হয়ে আসে (পুরুষদের) পিঠের মেরুদন্ড ও (নারীর) বুকের (পাঁজরের) মাঝখান থেকে;

৮. অবশ্যই তিনি তার ফেরৎ আনার ক্ষমতা রাখেন;

৯. সেদিন (তার) যাবতীয় গোপন বিষয় যাছাই বাছাই করা হবে,

১০. (সেদিন) তার কোনো শক্তিই থাকবে না, থাকবে না তার কোনো সাহায্যকারীও;

১১. বৃষ্টি বর্ষণকারী আকাশের শপথ,

১২. (বৃষ্টিধারায়) ফেটে যাওয়া যমীনের শপথ,

১৩. অবশ্যই এ (কোরআন) হচ্ছে (হক বাতিলের চূড়ান্ত) পার্থক্যকারী কথা,

১৪. তা অর্থহীন (কোনো কিছু) নয়;

১৫. নিসন্দেহে এরা (আমার বিরুদ্ধে) চক্রান্ত করছে,

১৬. আমিও (এদের ব্যাপারে) একটি কৌশল অবলম্বন করছি,

১৭. অতএব তুমি (সে কৌশল দেখার জন্যে) কাফেরদের কিছু অবকাশ দাও।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

সূরা আল-আ’লা [সর্বোচ্চ/সর্বোন্নত/সুমহান]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ১৯, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৭, অবতীর্ণের অনুক্রম ০৮]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. (হে নবী,) তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো,

২. যিনি তৈরী করেছেন (সকল কিছু), অতপর (তাকে) সুবিন্যস্ত করেছেন,

৩. তিনি (সবকিছুর) পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন, অতপর (সবার চলার) পথ বাতলে দিয়েছেন,

৪. তিনি (যমীন থেকে) গাছের চারা বের করে এনেছেন,

৫. অতপর তিনি (তাকে শুকনো) খড়কুটায় পরিণত করেছেন;

৬. আমি (এই ওহী) তোমাকে পড়িয়ে দেবো, (অতপর) তুমি আর (তা) ভুলবে না,

৭. অবশ্য আল্লাহ তায়ালা যদি চান (তা ভিন্ন কথা); তিনি প্রকাশ্য বিষয় জানেন, (জানেন) যা কিছু সে গোপন করে- তাও;

৮. আমি তোমার জন্যে সহজ পদ্ধতিগুলোর সুযোগ করে দেবো,

৯. কাজেই তুমি (তাদের আল্লাহ তায়ালার কথা) স্মরণ করাতে থাকো, যদি স্মরণ করানোটা উপকারী হয়;

১০. যে ব্যক্তি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করবে সে (অবশ্যই) উপদেশ গ্রহণ করবে,

১১. আর যে পাপী ব্যক্তি সে তা এড়িয়ে যাবে,

১২. যে ব্যক্তি অচিরেই বিশালকায় এক আগুনে গিয়ে পড়বে,

১৩. অতপর সেখানে সে মরবে না, (বাঁচার মতো করে) সে বাঁচবেও না;

১৪. যে ব্যক্তি (নিজেকে) পরিশুদ্ধ করে নিয়েছে, সে অবশ্যই সফলকাম হয়েছে-

১৫. এবং সে নিজের মালিকের নাম স্মরণ করেছে অতপর সে নামায আদায় করেছে।

১৬. কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকো,

১৭. অথচ আখেরাতের জীবনই হচ্ছে উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী;

১৮. নিশ্চয়ই এ (কথা) আগের (নবীদের) কিতাবসমূহে (মজুদ) রয়েছে,

১৯. (মজুদ আছে) ইবরাহীম এবং মূসার কিতাবসমূহেও।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

সূরা আল-গাশিয়াহ্‌ [আচ্ছন্নকারী/সমাচ্ছন্নকারী/বিহ্বলকর ঘটনা]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ২৬, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৮, অবতীর্ণের অনুক্রম ৬৮]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. তোমার কাছে কি (চতুর্দিক) আচ্ছন্নকারী (বিপদের) কথা পৌঁছেছে?

২. (সে মহা বিপদে) কিছু লোকের চেহারা হবে নিম্নগামী,

৩. (হবে) ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত,

৪. তারা (সেদিন) ঝলসে যাওয়া আগুনে প্রবেশ করবে,

৫. ফুটন্ত পানির (কুয়া) থেকে এদের পানি পান করানো হবে;

৬. খাবার হিসেবে কাঁটাবিশিষ্ট গাছ ছাড়া তাদের জন্যে আর কিছুই থাকবে না,

৭. এ (খাবার)-টি (যেমন) তাদের পুষ্ট করবে না, তেমনি (তা দ্বারা) তাদের ক্ষুধাও মিটবে না;

৮. (অপরদিকে) কিছু চেহারা থাকবে আনন্দোজ্জ্বল,

৯. সে আনন্দোজ্জ্বল চেহারাগুলো তাদের চেষ্টা সাধনার জন্যে (সেদিন) ভীষণ খুশী হবে,

১০. (তারা থাকবে) আলীশান জান্নাতে,

১১. সেখানে তারা কোনো বাজে কথা শোনবে না;

১২. তাতে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণাধারা।

১৩. তাতে থাকবে (সুসজ্জিত) উঁচু উঁচু আসন,

১৪. (সাজানো থাকবে) নানা ধরনের পানপাত্র,

১৫. (থাকবে) সারি সারি গালিচা ও রেশমের বালিশ,

১৬. (আরো থাকবে) উৎকৃষ্ট কার্পেটের বিছানা;

১৭. তারা কি (মাঠের) উটনীটির দিকে তাকিয়ে দেখে না কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে!

১৮. আকাশের দিকে (তাকিয়ে দেখে না)? কিভাবে তাকে উঁচু করে রাখা হয়েছে!

১৯. পাহাড়গুলোর দিকে (দেখে না)? কিভাবে তাদের (যমীনে) পুতে রাখা হয়েছে!

২০. যমীনের দিকে (দেখে না)? কিভাবে তাকে সমতল করে পেতে রাখা হয়েছে!

২১. তুমি (তাদের এগুলো) স্মরণ করাতে থাকো। তুমি তো একজন উপদেশদানকারী মাত্র;

২২. তুমি তো তাদের ওপর বল প্রয়োগকারী (কোনো দারোগা) নও,

২৩. সে ব্যক্তির কথা আলাদা যে (হেদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং (যে আল্লাহকে) অস্বীকার করেছে,

২৪. আল্লাহ তায়ালা তাকে অবশ্যই বড়ো রকমের শাস্তি দেবেন;

২৫. অবশ্যই তাদের প্রত্যাবর্তন হবে আমার দিকে,

২৬. অতপর তাদের হিসাব নেয়া (-র দায়িত্ব সম্পূর্ণত) আমার ওপর।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

সূরা আল-ফাজ্‌র [ভোর/ঊষা/প্রভাত]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৩০, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৮৯, অবতীর্ণের অনুক্রম ১০]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. ভোরের শপথ,

২. শপথ দশটি (বিশেষ) রাতের,

৩. শপথ জোড় ও বিজোড় (সৃষ্টির),

৪. শপথ রাতের যখন তা সহজে বিদায় নিতে থাকে,

৫. এর মধ্যে কি বিবেকবান লোকদের জন্যে কোনো শপথ রাখা হয়েছে?

৬. তুমি কি দেখোনি, তোমার মালিক আদ (জাতি)-এর লোকদের সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন?

৭. ‘এরাম’ গোত্র (ছিলো) উঁচু স্তম্ভবিশিষ্ট প্রাসাদের অধিকারী,

৮. (জ্ঞান ও ঐশ্বর্যের দিক থেকে) জনপদে যাদের মতো কাউকেই (এর আগে) সৃষ্টি করা হয়নি,

৯. (উন্নত) ছিলো সামুদ, তারা (পাহাড়ের উপত্যকায়) পাথর কেটে কেটে অট্টালিকা বানাতো,

১০. (অত্যাচারী) ফেরাউন- যে ছিলো কীলক (গেঁথে শাস্তি) প্রদানকারী (যালেম),

১১. যারা দেশে দেশে (আল্লাহর সাথে) বিদ্রোহ করেছে,

১২. তারা তাতে বেশী মাত্রায় (বিপর্যয় ও) অশান্তি সৃষ্টি করেছে,

১৩. অবশেষে তোমার রব তাদের ওপর আযাবের কোড়ার কষাঘাত হানলেন,

১৪. অবশ্যই তোমার রব (এদের ধরার জন্যে) ওঁৎ পেতে রয়েছেন;

১৫. মানুষরা এমন- যখন তার রব তাকে (অর্থ সম্পদের) নেয়ামত ও সম্মান দিয়ে পরীক্ষা করেন তখন সে বলে, হ্যাঁ, আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন;

১৬. আবার যখন তিনি (ভিন্নভাবে) তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার রেযেক সংকুচিত করে দেন, তখন সে (নাখোশ হয়ে) বলে, আমার রব আমাকে অপমান করেছেন,

১৭. কখনো নয়- (আসল কথা হচ্ছে), তোমরা এতীমদের সম্মান করো না,

১৮. মেসকীনদের খাওয়ানোর জন্যে তোমরা একে অপরকে উৎসাহ দাও না,

১৯. তোমরা মৃত ব্যক্তির (রেখে যাওয়া) ধন-সম্পদ নিজেরাই সব কুক্ষিগত করো,

২০. বৈষয়িক ধন-সম্পদকে তোমরা গভীরভাবে ভালোবাসো;

২১. কখনো (তেমনটি উচিত) নয়, (ভেবে দেখো) যেদিন এ পৃথিবীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে,

২২. (সেদিন) তোমার রব স্বয়ং আবির্ভূত হবেন, আর ফেরেশতারা সব সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে,

২৩. সেদিন জাহান্নামকে (সামনে) নিয়ে আসা হবে, যেদিন প্রতিটি মানুষই (তার পরিণাম) বুঝতে পারবে, কিন্তু (তখন) এ বোধোদয় তার কী কাজে লাগবে?

২৪. সেদিন এ ব্যক্তি বলবে, কতো ভালো হতো যদি আমার (এ) জীবনের জন্যে (কিছুটা ভালো কাজ) আমি আগে ভাগেই পাঠিয়ে দিতাম,

২৫. সেদিন আল্লাহ তায়ালা (বিদ্রোহীদের) এমন শাস্তি দেবেন- যা অন্য কেউ দিতে পারবে না-

২৬. এবং তাঁর বাঁধনের মতো বাঁধনেও কেউ (পাপীদের) বাঁধতে পারবে না;

২৭. (নেককাররদের বলা হবে,) হে প্রশান্ত আত্মা,

২৮. তুমি তোমার মালিকের কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্টচিত্তে ও তাঁর প্রিয়ভাজন হয়ে,

২৯. অতপর তুমি আমার প্রিয় বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যাও,

৩০. (আর) প্রবেশ করো আমার (অনন্ত) জান্নাতে।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

সূরা আল-বালাদ [শহর/নগরী]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ২০, রুকু ০১] [কোরআনে অবস্থান ৯০, অবতীর্ণের অনুক্রম ৩৫]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. আমি শপথ করছি এ (পবিত্র) নগরীর,

২. এ নগরীতে তুমি (যুদ্ধের বাধ্যবাধকতা থেকে) দায়মুক্ত।

৩. আমি শপথ করছি (আদি) পিতা ও (তার ঔরস থেকে) যাদের সে জন্ম দিয়েছে (তাদের),

৪. আমি মানুষকে এক কঠোর পরিশ্রমের মাঝে পয়দা করেছি;

৫. এ মানুষটি কি একথা মনে করে, তার ওপর কারোই কোনো ক্ষমতা চলবে না?

৬. সে বলে, আমি তো প্রচুর সম্পদ উড়িয়ে দিয়েছি;

৭. সে কি ভেবেছে তার এসব (কর্মকান্ড) কেউ দেখেনি?

৮. আমি কি (ভালোমন্দ দেখার জন্যে) তাকে দুটো চোখ দেইনি?

৯. আমি কি তাকে একটি জিহ্‌বা ও দুটো ঠোঁট দেইনি?

১০. আমি কি তাকে (ন্যায় অন্যায়ের) দুটো পথ বলে দেইনি?

১১. (কিন্তু সে তো দুর্গম পথ) পার হওয়ার হিম্মত দেখায়নি,

১২. তুমি কি জানো সে দুর্গম পথটি কি?

১৩. (তা হচ্ছে) দাসত্বের শেকল খুলে (কাউকে মুক্ত করে) দেয়া,

১৪. অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে কাউকে খাবার দেয়া,

১৫. নিকটতম কোনো এতীমকে আহার পৌছানো,

১৬. কিংবা ধুলো লুষ্ঠিত কোনো মেসকীনকে কিছু দান করা;

১৭. অতপর তাদের দলে শামিল হয়ে যারা ঈমান আনবে, একে অপরকে ধৈর্যের অনুশীলন করাবে এবং একে অপরকে দয়া দেখানোর উপদেশ দেবে;

১৮. এরাই হচ্ছে ডান দিকের (সে সৌভাগ্যবান) লোক,

১৯. আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে তারা হচ্ছে বাম দিকের (ব্যর্থ) লোক,

২০. (যেখানে) তাদের ওপর ছেয়ে থাকবে আগুনের শিখা।

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।