[মক্কায়
অবতীর্ণ- আয়াত ৪৪, রুকু
০২] [কোরআনে অবস্থান ৭০, অবতীর্ণের
অনুক্রম ৭৯]
পরম
করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-
১.
একজন প্রশ্নকর্তা (আল্লাহ তায়ালার) অবধারিত আযাব (দ্রুত) পেতে চাইলো,
২. (এ
আযাব হচ্ছে) কাফেরদের জন্যে, তার প্রতিরোধকারী কিছুই নেই,
৩. (এ
আযাব আসবে) সমুন্নত মর্যাদার অধিকারী আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে;
৪. ফেরেশতাকুল ও (তাদের নেতা) ‘রূহ’ (জিবরাঈল) আল্লাহর দিকে আরোহণ করে
এমন একটি দিনে, যার পরিমাণ (তোমাদের) পঞ্চাশ হাজার বছর,
৫. অতএব (হে নবী, কাফেরদের ব্যাপারে) তুমি উত্তম ধৈর্য ধারণ করো।
৬.
তারা এ (অবধারিত আযাব)-কে একটি দূরের (ব্যাপার) হিসেবেই দেখতে পায়,
৭.
অথচ আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি একেবারে আসন্ন;
৮.
যেদিন আসমান হবে গলিত তামার মতো,
৯. আর
পাহাড়গুলো হবে (রং বেরংয়ের) ধুনা পশমের মতো,
১০. (সেদিন) এক বন্ধু আরেক বন্ধুর খবর নেবে না,
১১. (অথচ) তারা একজন আরেকজনকে ঠিকই দেখতে পাবে, (সেদিন) অপরাধী ব্যক্তি আযাব থেকে (নিজেকে) বাঁচাতে মুক্তিপণ হিসেবে তার
পুত্র সন্তানদের দিতে পারলেও তা দিতে চাইবে,
১২.
(দিতে চাইবে) নিজের স্ত্রী এবং নিজের ভাইকেও-
১৩.
এবং নিজের পরিবার এমন আপনজনদেরও, যারা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলো,
১৪.
ভূমন্ডলের সবকিছুই সে (দিতে চাইবে), তারপরও সে তা থেকে বাঁচতে চাইবে,
১৫.
না (কিছুতেই সেদিন বাঁচা যাবে না); জাহান্নাম হচ্ছে একটি প্রজ্বলিত আগুনের লেলিহান শিখা,
১৬.
যা চামড়া ও তার আভ্যন্তরীণ মাংসগুলোকে খসিয়ে দেবে,
১৭. (সেদিন) সে (আগুন) এমন সব লোকদের
ডাকবে, যারা (দুনিয়ার জীবনে তা থেকে) ফিরে গিয়েছিলো এবং পৃষ্ঠ
প্রদর্শন করেছিলো,
১৮.
(যারা বিপুল) ধনরাশি জমা করে তা আগলে রেখেছিলো।
১৯.
(আসলে) মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে ভীরু জীব হিসেবে,
২০. যখন
তার ওপর কোনো বিপদ আসে তখন সে ঘাবড়ে যায়,
২১.
(আবার) যখন তার সচ্ছলতা ফিরে আসে তখন সে কার্পণ্য করতে আরম্ভ করে,
২২. কিন্তু
সেসব লোকদের কথা আলাদা যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে-
২৩.
যারা নিজেদের নামাযে সার্বক্ষণিকভাবে কায়েম থাকে-
২৪.
(যারা বিশ্বাস করে) তাদের সম্পদে সুনির্দিষ্ট অধিকার আছে-
২৫. এমন সব লোকদের জন্যে- যারা (অন্যদের কাছে কিছু)
চায় এবং যারা (নানা সুবিধা) বঞ্চিত,
২৬. (তারাও নয়-) যারা বিচার দিনের সত্যতা স্বীকার করে,
২৭.
(তদুপরি) যারা তাদের মালিকের আযাবকে ভয় করে,
২৮. নিশ্চয়ই তাদের মালিকের আযাবের বিষয়টি নিয়ে
নিশ্চিন্ত (বসে) থাকা যায় না।
২৯. যারা নিজেদের যৌন অংগসমূহের হেফাযত করে,
৩০. অবশ্য নিজেদের স্ত্রীদের কিংবা এমন সব মহিলাদের বেলায় (এটা
প্রযোজ্য) নয়, যারা (আল্লাহ তায়ালার অনুমোদিত পন্থায়)
তাদের মালিকানাধীন রয়েছে, (এখানে সংযম না করা হলে এ জন্য)
কোনো অবস্থায়ই তারা তিরস্কৃত হবে না,
৩১.
(এ সীমারেখার) বাইরে যারা (যৌন সম্ভোগের জন্যে) অন্য কিছু পেতে চাইবে, তারা হবে সীমালংঘনকারী,
৩২.
যারা তাদের (কাছে রক্ষিত) আমানত ও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,
৩৩.
যারা (সত্যের পক্ষে) সাক্ষ্য প্রদানের ব্যাপারে অটল থাকে,
৩৪.
(সর্বোপরি) যারা নিজেদের নামাযের হেফাযত করে;
৩৫.
(পরকালে) এরাই জান্নাতে মর্যাদা সহকারে অবস্থান করবে;
৩৬. এ
কাফেরদের (আজ) কী হলো? এরা
কেন ঊর্ধ্বশ্বাসে তোমার সামনে ছুটে আসছে,
৩৭.
(ছুটে আসছে) ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে, দলে দলে!
৩৮.
তাদের প্রত্যেক ব্যক্তি কি এ (মিথ্যা) আশা পোষণ করে যে, তাকে (আল্লাহর) নেয়মত ভরা
জান্নাতে দাখিল করা হবে!
৩৯. না, তা কখনো নয়, আমি তাদের এমন এক (নিকৃষ্ট) জিনিস নিয়ে বানিয়েছি যা তারা জানে।
৪০.
আমি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের মালিকের শপথ করছি, অবশ্যই আমি (বিদ্রোহীদের শাস্তি প্রদানে) সক্ষম,
৪১.
(আমি সক্ষম) এদের চাইতে উৎকৃষ্ট কাউকে দিয়ে (এদের অবস্থা) বদলে দিতে এবং আমি (এতে
মোটেই) অক্ষম নই।
৪২. (হে নবী,) তুমি
(বরং) এদের ছেড়ে দাও, এরা কিছুদিন খেল তামাশায় নিমগ্ন থাক-
সেদিনটির সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যেদিনের (ব্যাপারে) তাদের ওয়াদা
দেয়া হচ্ছে-
৪৩.
সেদিন এরা এমন দ্রুতগতিতে (নিজ নিজ) কবর থেকে বের হয়ে আসবে, (দেখে মনে হবে) তারা (সবাই বুঝি)
কোনো শিকারের (লক্ষ্যবস্তুর) দিকে ছুটে চলেছে,
৪৪.
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত, অপমান ও লাঞ্ছনায় তাদের সবকিছু থাকবে আচ্ছন্ন; (তাদের
বলা হবে) এ হচ্ছে সেই দিবস, তোমাদের কাছে যেদিনের ওয়াদা করা
হয়েছিলো।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।
No comments:
Post a Comment