Wednesday, February 19, 2020

উমর (রাঃ) জমির মালিক হওয়ার পর

মদীনায় হিজরতের পর উমর (রাঃ) দরিদ্রের জীবন যাপন করতেন।

খাইবার যুদ্ধের পর তাঁর ভাগে পড়লো উৎকৃষ্ট এক খণ্ড জমি, যা উমরের জন্যে নিয়ে এলো সচ্ছল জীবনের এক সম্ভাবনা।

জমির মালিকানা পাওয়ার পর উমর (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-এর কাছে হাজির হলেন। বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, খাইবারে আমি খানিকটা জমি পেয়েছি। এত মূল্যবান সম্পত্তি আমি কোনদিন পাইনি। এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি?’

আল্লাহর রাসূল (সাঃ) উমরের মনোভাব বুঝলেন। তাঁকে বললেন, “যদি তোমার মন চায়, তাহলে আসল জমি নিজের অধিকারে রেখে জমির ফসল দান করে দাও।

তাই করলেন উমর (রাঃ)। গরীব-দুঃখী ও অভাবী আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য, গোলামদের আজাদ করা ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যে তিনি তার প্রাপ্ত গোটা সম্পত্তি ওয়াকফ করে দিলেন।

দারিদ্র সচ্ছলতার প্রতি কোনো লোভ উমরের (রাঃ) মধ্যে সৃষ্টি করতে পারেনি।

লেখকঃ আবুল আসাদ
বইঃ আমরা সেই সে জাতি তৃতীয় খণ্ড

হুসাইন ঝর্ণা বিক্রি করলেন

মহানবীর (সাঃ) প্রিয় নাতি হুসাইন (রাঃ)।

তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রাঃ)-এর পুত্র।

দরিদ্রের জীবন তাঁর।

বিরাট ঋণের বোঝা তাঁর মাথায়।

কিন্তু আবী নাইজারনামক অতি মূল্যবান ঝর্ণার মালিক তিনি।

অনেকেই হুসাইনকে (রাঃ) পরামর্শ দেন যে, ‘আবী নাইজারঝর্ণা বিক্রি করে ঋণ শেষার্ধ করেও বেশ অর্থের মালিক হতে পারেন তিনি।

কিন্তু আবী নাইজার ঝর্ণার পানি গরীব মুসলমানরা ব্যবহার করে। এ ঝর্ণার পানি থেকে সেচ করে তারা ফসল ফলায়। হুসাইন (রাঃ) এ ঝর্ণা বিক্রি করলে গরীব মুসলমানরা এ ঝর্ণার পানি থেকে বঞ্চিত হবে। হুসাইন লাভবান হলেও মহাক্ষতিগ্রস্ত হবে বিরাট সংখ্যক গরীব মুসলমান।

এই চিন্তা করে হযরত হুসাইন (রাঃ) আবী নাইজার ঝর্ণা বিক্রি করতে রাজী হননি। গরীর মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিবর্তে নিজের দারিদ্র ও ঋণের বোঝা বহনকেই বেহ্‌তর মনে করেন তিনি।

লেখকঃ আবুল আসাদ
বইঃ আমরা সেই সে জাতি তৃতীয় খণ্ড

Tuesday, February 11, 2020

সূরা আস-সফ

সূরার নামের অর্থঃ

সারি/সারিবদ্ধ সৈন্যদল/যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সারিবদ্ধ ও সুবিন্যস্ত সৈন্যদল

[মদীনায় অবতীর্ণ- আয়াত ১৪, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৬১, অবতীর্ণের অনুক্রম ১০৯]
 পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

. আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর (পবিত্রতা ও) মাহাত্ন্য ঘোষণা করে, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রবল প্রজ্ঞাময়।

২. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, এমন কথা তোমরা কেন বলো যা তোমরা (নিজেরা) করো না।

৩. আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ যে, তোমরা এমন সব কথা বলে বেড়াবে- যা তোমরা করবে না!

৪. আল্লাহ তায়ালা তাদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা এক শিশাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর

৫. (স্বরণ করো,) যখন মূসা নিজের জাতিকে বলেছিলো, হে আমার জাতি, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছো, অথচ তোমরা জানো, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর (পাঠানো) একজন রসূল; অতপর লোকেরা যখন বাঁকা পথে চলতে আরম্ভ করলো, তখন আল্লাহ তায়ালাও তাদের মন বাঁকা করে দিলেন; আল্লাহ তায়ালা না-ফরমান জাতিকে সঠিক পথের দিশা দেন না।

৬. (স্মরণ করো,) যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা তাদের বললো, হে বনী ইসরাঈলের লোকেরা, আমি তোমাদের কাছে (পাঠানো) আল্লাহর রসূল, আমার আগের তাওরাত কিতাবে যা কিছু আছে আমি তার সত্যতা স্বীকার করি এবং তোমাদের জন্যে আমি হচ্ছি একজন সুসংবাদদাতা, (এর একটি সুসংবাদ হচ্ছে), আমার পরে এক রসূল আসবে, তার নাম আহমদ; অতপর (আজ) যখন সে (সত্যি সত্যিই) তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে হাযির হলো তখন তারা বললো, এ হচ্ছে এক সুস্পষ্ট যাদু!

৭. তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, (অথচ) তাকে ইসলামের দিকেই দাওয়াত দেয়া হচ্ছে; (মূলত) আল্লাহ তায়ালা সীমালংঘনকারী জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।

৮. এ লোকেরা তাদের মুখের ফুৎকারেই আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়; অথচ আল্লাহ তাঁর এ নূর পরিপূর্ণ করে দিতে চান; কাফেররা তাকে যতোই অপছন্দ করুক না কেন!

৯. তিনি তাঁর রসূলকে একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও সঠিক জীবনবিধান দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে দুনিয়ার সব কয়টি জীবন ব্যবস্থার ওপর বিজয়ী করে দিতে পারেন, মোশরেকরা তাকে যতোই অপছন্দ করুক না কেন!

১০. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, আমি কি তোমাদের এমন একটি (লাভজনক) ব্যবসার সন্ধান দেবো যা তোমাদের (জাহান্নামের) কঠোর আযাব থেকে বাঁচিয়ে দেবে!

১১. (হ্যাঁ, সে ব্যবসাটি হচ্ছে,) তোমারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর (দ্বীন প্রতিষ্ঠার) পথে তোমাদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করবে; এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝতে পারো,

১২. আল্লাহ তায়ালা (এর ফলে) তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন এবং (শেষ বিচারের দিন) তোমাদের তিনি প্রবেশ করাবেন এমন এক (সুরম্য) জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত থাকবে, (সর্বোপরি) তিনি তোমাদের আরো প্রবেশ করাবেন জান্নাতের স্থায়ী নিবাসস্থলের সুন্দর ঘরসমূহে; আর এটাই হচ্ছে সবচাইতে বড়ো সাফল্য,

১৩. আরো একটি (বড়ো) অনুগ্রহ (রয়েছে) যা তোমাদের একান্ত কাম্য (এ তা হচ্ছে), আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য ও (ময়দানের) আসন্ন বিজয়; (তোমরা মোমেনদের) সুসংবাদ দাও।

১৪. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমনি করে মারইয়াম পুত্র ঈসা (তাঁর) সংগী সাথীদের বলেছিলো, কে আছো তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) পথে আমার সাহায্যকারী হবে? (তাঁর) সাথীরা বলেছিলো, হ্যাঁ, আমরা আছি আল্লাহর (পথে তোমার) সাহায্যকারী, অতপর বনী ইসরাঈলের একটি দল (সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর ওপর) ঈমান আনলো, আরেক দল (তা সম্পূর্ণ) অস্বীকার করলো, অতপর তাদের (অস্বীকারকারী) দুশমনদের ওপর আমি ঈমানদারদের সাহায্য করলাম, ফলে (যারা ঈমানদার) তারাই বিজয়ী হলো

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।