Monday, July 27, 2020

সূরা ৮১. আত-তাকভীর (গুটিয়ে নিয়ে আলোহীন করা)

আয়াত ২৯ মক্কায় অবতীর্ণ রুকু ১

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১. যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,

২. যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে,

৩. যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে,

৪. যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে;

৫. যখন বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে,

৬. যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,

৭. যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে,

৮. যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে,

৯. কি অপরাধে তাকে হত্য করা হল?

১০. যখন আমলনামা খোলা হবে,

১১. যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে,

১২. যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে

১৩. এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে,

১৪. তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে।

১৫. আমি শপথ করি যেসব নক্ষত্রগুলো পশ্চাতে সরে যায়।

১৬. চলমান হয় ও অদৃশ্য হয়,

১৭. শপথ নিশাবসান ও

১৮. প্রভাত আগমন কালের,

১৯. নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের আনীত বাণী,

২০. যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাশালী,

২১. সবার মান্যবর, সেখানকার বিশ্বাসভাজন।

২২. এবং তোমাদের সাথী পাগল নন।

২৩. তিনি সেই ফেরেশতাকে প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছেন।

২৪. তিনি অদৃশ্য বিষয় বলতে কৃপনতা করেন না।

২৫. এটা বিতাড়িত শয়তানের উক্তি নয়।

২৬. অতএব, তোমরা কোথায় যাচ্ছ?

২৭. এটা তো কেবল বিশ্বাবাসীদের জন্যে উপদেশ,

২৮. তার জন্যে, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়।

২৯. তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।

পবিত্র কোরআনুল করীম
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

সূরা ৮২. আল-ইনফিতার (বিদীর্ণ করা)

আয়াত ১৯ মক্কায় অবতীর্ণ রুকু ১

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১. যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,

২. যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,

৩. যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,

৪. এবং যখন কবরসমূহ উম্মোচিত হবে,

৫. তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে।

৬. হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?

৭. যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন।

৮. যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন।

৯. কখনও বিভ্রান্ত হয়ো না; বরং তোমরা দান-প্রতিদানকে মিথ্যা মনে কর।

১০. অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে।

১১. সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ।

১২. তারা জানে যা তোমরা কর।

১৩. সৎকর্মশীলগণ থাকবে জান্নাতে।

১৪. এবং দুষ্কর্মীরা থাকবে জাহান্নামে;

১৫. তারা বিচার দিবসে তথায় প্রবেশ করবে।

১৬. তারা সেখান থেকে পৃথক হবে না।

১৭. আপনি জানেন, বিচার দিবস কি?

১৮. অতঃপর আপনি জানেন, বিচার দিবস কি?

১৯. যেদিন কেউ কারও কোন উপকার করতে পারবে না এবং সেদিন সব কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর।

পবিত্র কোরআনুল করীম
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

সূরা ৮৩. আত-তাতফীফ (প্রতারণা করা)

আয়াত ৩৬ মক্কায় অবতীর্ণ রুকু ১

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১. যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,

২. যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়

৩. এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।

৪. তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।

৫. সেই মহাদিবসে,

৬. যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।

৭. এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে।

৮. আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?

৯. এটা লিপিবদ্ধ খাতা।

১০. সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,

১১. যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।

১২. প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে।

১৩. তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে সে বলে, পুরাকালের উপকথা।

১৪. কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।

১৫. কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।

১৬. অতঃপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

১৭. এরপর বলা হবে, একেই তো তোমরা মিথ্যারোপ করতে।

১৮. কখনও না, নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে।

১৯. আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি?

২০. এটা লিপিবদ্ধ খাতা।

২১. আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।

২২. নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে,

২৩. সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে।

২৪. আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন।

২৫. তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে।

২৬. তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।

২৭. তার মিশ্রণ হবে তসনীমের পানি।

২৮. এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ।

২৯. যারা অপরাধী, তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করত।

৩০. এবং তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত।

৩১. তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনও হাসাহাসি করে ফিরত।

৩২. আর যখন তারা বিশ্বাসীদেরকে দেখত, তখন বলত, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত।

৩৩. অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি।

৩৪. আজ যারা বিশ্বাসী, তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে।

৩৫. সিংহাসনে বসে, তাদেরকে অবলোকন করছে,

৩৬. কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো?

পবিত্র কোরআনুল করীম
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

সূরা ৮৪. আল-ইনশিক্বাক্ব (খণ্ড-বিখণ্ড করণ)

আয়াত ২৫ মক্কায় অবতীর্ণ রুকু ১

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১. যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,

২. ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত

৩. এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে।

৪. এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে।

৫. এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত।

৬. হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে।

৭. যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে

৮. তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে

৯. এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে

১০. এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে,

১১. সে মৃত্যুকে আহবান করবে,

১২. এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

১৩. সে তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আনন্দিত ছিল।

১৪. সে মনে করত যে, সে কখনও ফিরে যাবে না।

১৫. কেন যাবে না, তার পালনকর্তা তো তাকে দেখতেন।

১৬. আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লাল আভার

১৭. এবং রাত্রির, এবং তাতে যার সমাবেশ ঘটে

১৮. এবং চন্দ্রের, যখন তা পূর্ণরূপ লাভ করে,

১৯. নিশ্চয় তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহণ করবে।

২০. অতএব, তাদের কি হল যে, তারা ঈমান আনে না?

২১. যখন তাদের কাছে কোরআন পাঠ করা হয়, তখন সেজদা করে না।

২২. বরং কাফেররা এর প্রতি মিথ্যারোপ করে।

২৩. তারা যা সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তা জানেন।

২৪. অতএব, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।

২৫. কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।

পবিত্র কোরআনুল করীম
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

সূরা ৮৫. আল-বুরূজ (নক্ষত্রপুঞ্জ)

আয়াত ২২ মক্কায় অবতীর্ণ রুকু ১

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১. শপথ গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশের,

২. এবং প্রতিশ্রুত দিবসের,

৩. এবং সেই দিবসের, যে উপস্থিত হয় ও যাতে উপস্থিত হয়

৪. অভিশপ্ত হয়েছে গর্ত ওয়ালারা অর্থাৎ,

৫. অনেক ইন্ধনের অগ্নিসংযোগকারীরা;

৬. যখন তারা তার কিনারায় বসেছিল।

৭. এবং তারা বিশ্বাসীদের সাথে যা করেছিল, তা নিরীক্ষণ করছিল।

৮. তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল,

৯. যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ক্ষমতার মালিক, আল্লাহর সামনে রয়েছে সবকিছু।

১০. যারা মুমিন পুরুষ ও নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা,

১১. যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।

১২. নিশ্চয় তোমার পালনকর্তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন।

১৩. তিনিই প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন এবং পুনরায় জীবিত করেন।

১৪. তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়;

১৫. মহান আরশের অধিকারী।

১৬. তিনি যা চান, তাই করেন।

১৭. আপনার কাছে সৈন্যবাহিনীর ইতিবৃত্ত পৌছেছে কি?

১৮. ফেরাউনের এবং সামুদের?

১৯. বরং যারা কাফের, তারা মিথ্যারোপে রত আছে।

২০. আল্লাহ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

২১. বরং এটা মহান কোরআন,

২২. লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ।

পবিত্র কোরআনুল করীম
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

সূরা ৮৬. আত্ব-তারেক্ব (রাতের আগন্তুক)

আয়াত ১৭ মক্কায় অবতীর্ণ রুকু ১

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

১. শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর।

২. আপনি জানেন, যে রাত্রিতে আসে সেটা কি?

৩. সেটা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

৪. প্রত্যেকের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।

৫. অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে।

৬. সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।

৭. এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।

৮. নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

৯. যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,

১০. সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।

১১. শপথ চক্রশীল আকাশের

১২. এবং বিদারনশীল পৃথিবীর

১৩. নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালা।

১৪. এবং এটা উপহাস নয়।

১৫. তারা ভীষণ চক্রান্ত করে,

১৬. আর আমিও কৌশল করি।

১৭. অতএব, কাফেরদেরকে অবকাশ দিন, তাদেরকে অবকাশ দিন, কিছু দিনের জন্যে।

পবিত্র কোরআনুল করীম
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান