আবদুল্লাহ মহানবীর (সাঃ) একজন সাহাবী।
ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল আবদুল ওজ্জা।
পিতৃহীন আবদুল ওজ্জা ছিলো বিশাল বিত্ত-বৈভবের অধিকারী। পিতৃব্যের
একমাত্র উত্তরাধিকারী।
সুখের সাগরে লালিত আবদুল ওজ্জার বিয়ে হয় এক ধনী কন্যার সাথে।
মক্কায় চলছিল তখন ইসলামের দাওয়াত।
ইসলামের দাওয়াত হৃদয় জয় করে নিল আবদুল ওজ্জার। তিনি ইসলাম
গ্রহণের জন্যে ব্যাকুল হয়ে উঠলেন।
একদিন সে পিতৃব্যের কাছে গিয়ে হাজির হয়ে ইসলাম ধর্মকে সত্য
ধর্ম হিসেবে অভিহিত করে অনুরোধ জানালো পিতৃব্যকে ইসলাম গ্রহণের জন্যে।
পিতৃব্যের কাছে অকল্পনীয় ছিল তার কাছে ভ্রাতুষ্পুত্রের এই
আহ্বান। ক্রোধে আগুন হয়ে উঠলেন তিনি। ভ্রাতুষ্পুত্রকে ভয় দেখাবার জন্যে বলে উঠলেন,
‘তোর মত নাস্তিক আমার সম্পত্তির এক কপর্দকও পাবে না।’
উত্তরে আবদুল ওজ্জা সসম্ভ্রমে পিতৃব্যকে বলল, ‘তার সম্পত্তি
অপেক্ষা সত্য অনেক বড়।’ বলে আবদুল ওজ্জা তার দেহ থেকে বহুমূল্য পোশাক খুলে ফেললেন।
ছুটে গেলেন বিধবা মাতার কাছে। বললেন মা, আমাকে লজ্জা নিবারণের মত কাপড় দাও।
তাঁর মা আবদুল ওজ্জার পিতার আমলের এক জীর্ণ কম্বল ছুড়ে দিলেন
পুত্রের দিকে।
আবদুল ওজ্জা সেই কম্বল ছিঁড়ে দুই ভাগ করে একখণ্ড পরিধান করলেন,
আরেক খণ্ড গায়ে চাপালেন। তারপর ছুটলেন মদীনার দিকে মহানবীর কাছে।
দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা শেষে মসজিদের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন আবদুল
ওজ্জা।
আবদুল ওজ্জার মুখের দিকে একবার তাকিয়েই সব বুঝতে পারলেন মহানবী
(সাঃ)। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কে?’
‘আমি আবদুল ওজ্জা, সত্যের সেবক।’
মহানবী (সাঃ) বললেন, ‘তুমি আর ওজ্জার দাস নও, তুমি আল্লাহর
দাস আবদুল্লাহ। যাও তুমি আত্মোৎসর্গকারী আসহাবে ছুফফার জামায়াতে প্রবেশ কর। আমার নিকট
এই মসজিদেই তুমি থাকবে।’
মহানবী (সাঃ) অপরিসীম ভালবাসতেন এই নতুন আবদুল্লাহকে।
ভাবে বিভোর আবদুল্লাহ একদিন উচ্চস্বরে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত
করতে থাকায় হযরত উমর বিরক্তি প্রকাশ করলেন।
মহানবী (সাঃ) উমর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, ‘উমর, ওকে কিছু
বলো না। এই আবেগের কল্যাণেই তো সে নিজের যথাসর্বস্ব বিসর্জন দিতে সমর্থ হয়েছে।’
তাবুক অভিযানের সময় পথিমধ্যে আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন।
কি সৌভাগ্য আবদুল্লাহর।
স্বয়ং হযরত আবু বকর ও হযরত উমর এগিয়ে এসে তাঁর দেহ কবরে নামাতে
লাগলেন। বেলাল তুলে ধরলেন প্রদীপ। আর মহানবী (সাঃ) ব্যাকুল কণ্ঠে তখন বলছেন, ‘সসম্ভ্রমে,
সসম্ভ্রমে, তোমাদের ভ্রাতাকে সসম্ভ্রমে নামাও।’
বলতে বলতে স্বয়ং মহানবী (সাঃ) কবরে নেমে পড়লেন এবং নিজ হাতে
তার দেহ কবরে স্থাপন করলেন।
লেখকঃ আবুল আসাদ
বইঃ আমরা সেই সে
জাতি [তৃতীয় খণ্ড]
No comments:
Post a Comment