Tuesday, April 21, 2020

ভয়ংকর ছোমামা মহানবীর অতিথি হলো

বনু হানিফা আরবের একটা বিখ্যাত গোত্র। মক্কা ও ইয়েমেনের মধ্যপথ ইয়ামামায় তাদের বাস। একটা অভিযানকালে বনু হানিফার একজন প্রধান ব্যাক্তি ছোমামা ইবনে ওছাল মুসলমানদের হাতে বন্দী হলেন।

তাকে আনা হল মদীনায়।

খুব বিপজ্জনক বন্দী ছোমামা।

তাকে মসজিদের একটা থামে বেঁধে রাখা হয়েছে।

খবর পাওয়ার পর মহানবী (সাঃ) তার কাছে এলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ছোমামা, তোমার প্রতি কিরূপ ব্যবহার করা হবে বলে মনে করছ?’

ছোমামা উত্তরে বলল, “ভালই মনে করছি। আমি খুনের অপরাধী, আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে হত্যা করতে পারেন। তবে আপনার কাছে আমি প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা লাভ করার আশ করি। আপনি দেখবেন, আমি কত কৃতজ্ঞ, কত ভদ্র। আর বিনিময় হিসাবে অর্থ গ্রহণ করতে চাইলে বলুন, যা চাইবেন দিতে প্রস্তুত আছি।’

কোন প্রতিশ্রুতি না দিয়ে মহানবী (সাঃ) তাকে নিজের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করলেন এবং নিজ বাড়ীতে নিয়ে গেলেন।

রাতে মহানবী (সাঃ) ছোমামাকে খাবার দিলেন। মহানবীর পরিবারের সব খাবার সে একাই শেষ করল।

পরদিন সকালে মহানবী (সাঃ) তাকে বললেন, ‘ছোমামা, আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম, তুমি এখন মুক্ত।’

মুক্তির এই বার্তা পেয়েই মসজিদের নিকটস্থ ক্ষুদ্র জলাশয়টিতে গোসল করল ছোমামা। তারপর মহানবীর (সাঃ) খেদমতে হাজির হয়ে উচ্চস্বরে কলেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে সত্য ধর্মে প্রবেশ করলেন।

কিছুদিন মদীনায় অবস্থানের পর ছোমামা ফিরে গেলেন তাঁর স্বদেশে। তাঁর একক প্রচারেই অল্পকালের মধ্যে বনু হানিফার সকল মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হলো।

লেখকঃ আবুল আসাদ
বইঃ আমরা সেই সে জাতি [তৃতীয় খণ্ড]

No comments:

Post a Comment