পরম
করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-
১. সে
(নবী) ভ্রুকুঞ্চিত করলো এবং (বিরক্ত হয়ে) মুখ ফিরিয়ে নিলো,
২.
কারণ তার কাছে একজন অন্ধ ব্যক্তি এসেছে;
৩.
তুমি কি জানতে- হয়তো বা সে (অন্ধ ব্যক্তিটি) নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতো,
৪.
(কিংবা) সে উপদেশ গ্রহণ করতো, অতপর তা তার জন্যে উপকারী হতো;
৫.
(অপরদিকে) যে (লোকটি হেদায়াতের প্রতি) বেপরোয়াভাব দেখালো-
৬.
তুমি তার প্রতিই (বেশী) মনোযোগ প্রদান করলে;
৭.
(অথচ) সে ব্যক্তি যে পরিশুদ্ধ হবে এটা তোমার দায়িত্বও নয়;
৮.
(অপর দিকে) যে ব্যক্তিটি (নিজ পরিশুদ্ধির জন্যে) তোমার কাছে দৌড়ে আসছে,
৯. সে
(আল্লাহকে) ভয় করে,
১০.
(অথচ) তুমি তার থেকেই বিরক্ত হলে,
১১.
না, কখনোই (এমনটি উচিত)
নয়। এ (কোরআন) হচ্ছে একটি উপদেশ,
১২.
যে চাইবে সে তা স্মরণ করবে।
১৩.
সম্মানিত স্থান (লওহে মাহফুয)-এটি (সংরক্ষিত) আছে,
১৪.
উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন ও সমধিক পবিত্র,
১৫.
এটি সংরক্ষিত (থাকে) মর্যাদাবান লেখকদের হাতে,
১৬.
(তারা) মহান ও পূত চরিত্রসম্পন্ন;
১৭.
মানুষের প্রতি অভিসম্পাত! কোন্ জিনিসটি তাকে (আল্লাহর আয়াতকে) অস্বীকার করালো;
১৮.
আল্লাহ তায়ালা কোন্ বস্তু থেকে তাকে পয়দা করেছেন; (তা কি সে দেখলো না?)
১৯.
তিনি তাকে এক বিন্দু শুক্র থেকে পয়দা করেছেন, অতপর তিনি তার (দেহে সব কিছুর যথাযথ) পরিমাণ নির্ধারণ
করেছেন,
২০.
অতপর তিনি (এই দুনিয়ায়) তার চলার পথ আসান করে দিয়েছেন,
২১.
এরপর তিনি তাকে মৃত্যু দিয়েছেন এবং তাকে কবরে রেখেছেন,
২২.
আবার তিনি যখন চাইবেন তাকে পুনরায় জীবিত করবেন;
২৩.
না, তাকে যা আদেশ করা
হয়েছে তা সে পালন করেনি;
২৪.
মানুষ তার খাবারের দিকেও একবার তাকিয়ে দেখুক (কতোগুলো স্তর অতিক্রম করে এই খাবার
তার সামনে আনা হয়েছে),
২৫.
আমি (শুকনো ভূমিতে) প্রচুর পরিমাণ পানি ঢেলেছি,
২৬.
এরপর আমি যমীনকে বিদীর্ণ করেছি,
২৭.
(অতপর) তাতে উৎপন্ন করেছি শস্যদানা,
২৮.
আংগুরের থোকা ও রকমারি শাকসবজি,
২৯.
(আরো উৎপন্ন করেছি) যয়তুন ও খেজুর (-সহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল),
৩০
(সেখানে রয়েছে) শ্যামল ঘন বাগান,
৩১.
(আছে) ফলমূল ও ঘাস,
৩২.
(এর সবই হচ্ছে) তোমাদের এবং তোমাদের গৃহপালিত জন্তু-জানোয়ারের উপকার ও উপভোগের
জন্যে;
৩৩.
অতপর যখন বিকট একটি আওয়ায আসবে (তখন সব আয়োজন শেষ হয়ে যাবে),
৩৪.
সেদিন মানুষ তার নিজ ভাইয়ের কাছ থেকে পালাতে থাকবে,
৩৫.
(পালাতে থাকবে) তার নিজের মায়ের কাছ থেকে,
নিজের বাপের কাছ থেকে,
৩৬.
তার সহধর্মিনী থেকে, (এমন
কি) তার ছেলেমেয়েদের থেকেও;
৩৭.
সেদিন তাদের প্রত্যেকের জন্যেই পরিস্থিতি এমন (ভয়াবহ) হবে যে, তাই তার (ভীতি ও উদ্বেগের) জন্য
যথেষ্ট হবে;
৩৮.
কিছুসংখ্যক (মানুষের) চেহারা সেদিন উজ্জ্বল হবে,
৩৯.
তারা সহাস্য ও প্রফুল্ল থাকবে,
৪০.
(অপর দিকে) সেদিন কিছুসংখ্যক চেহারা (কুৎসিত) হবে, তার ওপর ধুলাবালি পড়ে থাকবে,
৪১.
মলিনতায় তা ছেয়ে যাবে,
৪২. এ
লোকগুলোই হচ্ছে (কিতাব) অস্বীকারকারী,
এরাই হচ্ছে পাপিষ্ঠ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।
No comments:
Post a Comment