Tuesday, November 5, 2019

সূরা আল-ক্বিয়ামাহ [কিয়ামত/পুনরুত্থান]

[মক্কায় অবতীর্ণ- আয়াত ৪০, রুকু ০২] [কোরআনে অবস্থান ৭৫, অবতীর্ণের অনুক্রম ৩১]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে-

১. আমি শপথ করছি কেয়ামত দিবসের,

২. আমি শপথ করছি সে নফসের, যে (ক্রটি বিচ্যুতির জন্যে) নিজেকে ধিক্কার দেয়;

৩. মানুষ কি ধরে নিয়েছে যে, (সে মরে গেলে) আমি তার অস্থিমজ্জাগুলো আর কখনো একত্রিত করতে পারবো না;

৪. হ্যাঁ, অবশ্যই (আমি তা পারবো), আমি তো বরং তার আংগুলের গিরাগুলোকেও পুনর্বিন্যস্ত করে দিতে পারবো

৫. এ সত্বেও মানুষ তার সম্মুখের দিনগুলোতে (শুধু) পাপাচারেই লিপ্ত হতে চায়

৬. সে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কবে আসবে?

৭. (তুমি বলো,) যেদিন (সবার) দৃষ্টি ধাঁধাযুক্ত হয়ে যাবে,

৮. (যেদিন) চাঁদ নিষ্প্রভ হয়ে যাবে,

৯. চাঁদ ও সুরুজ একাকার হয়ে যাবে,

১০. (সেদিন) মানুষগুলো সব বলে উঠবে (সত্যিই তাো! কেয়ামত এসে গেছে), কোথায় আজ পালানোর জায়গা (আমাদের)?

১১. (ঘোষণা আসবে) না, (আজ পালাবার জায়গা নেই,) নেই কোনো আশ্রয়স্থলও;

১২. (আজ) আশ্রয়স্থল ও ঠাঁই আছে (একটাই এবং তা) শুধু তোমার মালিকের কাছে,

১৩. সেদিন প্রতিটি মানুষকে জানিয়ে দেয়া হবে, কি (আমল) নিয়ে সে আজ হাযির হয়েছে, আর কি (কি আমল) সে পেছনে রেখে এসেছে;

১৪. মানুষরা তো বরং নিজেদের কাজকর্মের ব্যাপারে নিজেরাই পর্যবেক্ষক,

১৫. যদিও সে নিজের (সপক্ষে সেদিন) নানা অজুহাত পেশ করতে চাইবে;

১৬. (হে নবী, ওহীর ব্যাপার,) তুমি তাতে তাড়াহুড়ো করার উদ্দেশ্যে তার সাথে তোমার জিহ্‌বা নাড়িয়ো না;

১৭. এর একত্র করা ও (ঠিকমতো তোমাকে) তা পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার ওপর,

১৮. অতএব আমি যখন (জিবরাঈলের মাধ্যমে তোমার কাছে) কোরআন পড়তে থাকি, তখন তুমি সে পড়ার অনুসরণ করার চেষ্টা করো,

১৯. অতপর (তোমাকে) এর ব্যাখ্যা বলে দেয়ার দায়িত্বও আমার ওপর;

২০. না, কক্ষণো না, তোমরা পর্থিব জগতকেই বেশী ভালোবাসো-

২১. এবং পরকালীন জীবনকে তোমরা উপেক্ষা করো!

২২. সেদিন কিছু সংখ্যক (মানুষের) চেহারা উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠবে,

২৩. এ (ভাগ্যবান) ব্যক্তিরা তাদের মালিকের দিকে তাকিয়ে থাকবে,

২৪. আবার এদিন কিছু মানুষের চেহারা হয়ে যাবে (উদাস ও) বিবর্ণ,

২৫. তারা ভাবতে থাকবে, (এক্ষুণি বুঝি) তাদের সাথে কোমর বিচূর্ণকারী (আযাবের) আচরণ (শুরু) করা হবে;

২৬. না, কখনো নয়, মানুষের প্রাণ (যখন) তার কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে যাবে,

২৭. তাকে বলা হবে, (এ সময় যাদুটোনা ও) ঝাড় ফুঁক দেয়ার মতো কেউ কি আছে?

২৮. সে (তখন) বুঝে নেবে যে, অবশ্যই (পৃথিবী থেকে এটাই) তার বিদায় (নেয়ার সময়),

২৯. (আর এভাবেই) তার (এ জীবনের শেষ) পা’ (পরের জীবনের প্রথম) পা’র সাথে জড়িয়ে যাবে,

৩০. আর সে দিনটিই হবে তোমার মালিকের দিকে (তার অনন্ত) যাত্রার (প্রথম) সময়!

৩১. (আসলে) এ (জাহান্নামী) ব্যক্তিটি সত্য স্বীকার করেনি এবং (সত্যের দাবী মোতাবেক) সে নামায প্রতিষ্ঠা করেনি,

৩২. বরং (তার বদলে) সে (সত্যকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং (সত্য থেকে) সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে,

৩৩. সে অত্যন্ত দম্ভ ও অহমিকাভরে নিজের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে গেলো,

৩৪. (আল্লাহ তায়ালা বলবেন,) হ্যাঁ, (এ পরিণাম ঠিক) তোমাকেই মানায় এবং এটা তোমারই প্রাপ্য।

৩৫. অতপর এ আচরণ শুধু তোমারই সাজে, (এটা) তোমার জন্যেই মানায়;

৩৬. মানুষ কি ধরে নিয়েছে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দিয়ে রাখা হবে;

৩৭. সে কি (এক সময়) এক ফোঁটা স্খলিত শুক্রবিন্দুর অংশ ছিলো না?

৩৮. তারপর তা হলো রক্তপিন্ড, অতপর আল্লাহ তায়ালা (দেহ সৃষ্টি করে তাকে) সুবিন্যস্ত করলেন,

৩৯. এরপর তিনি তার থেকে নারী পুরুষের জোড়া পয়দা করেছেন।

৪০. (যিনি এদের বানিয়েছেন) তিনি কি মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবেন না?

অনুবাদকঃ হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

No comments:

Post a Comment