পরম
করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্র নামে-
১. হে
বস্ত্ৰ আচ্ছাদনকারী (মুহাম্মাদ,)
২.
রাতে (নামাযের জন্যে উঠে) দাঁড়াও, কিছু অংশ বাদ দিয়ে-
৩.
তার অর্ধেক অংশ- অথবা তার চাইতে আরো কিছু কম করো,
৪.
কিংবা তার ওপর (আরো কিছু) বাড়িয়ে দাও, তুমি কোরআন তেলাওয়াত করো থেমে থেমে;
৫.
(হে মোহাম্মদ!) অচিরেই আমি তোমার ওপর একটি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) কিছু রাখতে যাচ্ছি।
৬.
অবশ্যই রাতে বিছানা ত্যাগ! তা আত্মসংযমের জন্যে বেশী কার্যকর (এ সময় দোয়া ও
কোরআন) পাঠেরও সুবিধা থাকে বেশী;
৭.
অবশ্যই দিনের বেলায় তোমার প্রচুর কর্মব্যস্ততা থাকে।
৮.
তুমি তোমার মালিকের নাম স্মরণ করো এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করো;
৯. আল্লাহ
তায়ালা পূর্ব পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, অতএব তাঁকেই তুমি
অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো।
১০. এ
(নির্বোধ) লোকেরা যেসব কথাবার্তা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ করো এবং সৌজন্য সহকারে
তাদের পরিহার করো।
১১.
মিথ্যা সাব্যস্তকারী ও সম্পদের অধিকারীদের (সাথে ফয়সালার) ব্যাপারটা তুমি আমাকে
ছেড়ে দাও এবং কিছুদিনের জন্যে তুমি তাদের অবকাশ দিয়ে রাখো।
১২.
অবশ্যই আমার কাছে (এদের পাকড়াও করার জন্যে) শেকল আছে, আছে (আযাব দেয়ার জন্যে) জাহান্নাম,
১৩.
(আরো রয়েছে) গলায় আটকে যাবে এমন খাবার ও যন্ত্রণা দেবে এমন ধরনের আযাব,
১৪.
(যেদিন এ ঘটনা ঘটবে) সেদিন পৃথিবী ও (তার) পাহাড়সমূহ প্রকম্পিত হতে থাকবে এবং
পাহাড়সমূহ হবে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা কতিপয় বালুর স্তূপ।
১৫.
অবশ্যই আমি তোমাদের কাছে (তোমাদের কাজকর্মের) সাক্ষ্যদাতা হিসেবে একজন
রসূল-পাঠিয়েছি, যেমনি
করে ফেরাউনের কাছেও আমি একজন রসূল পাঠিয়েছিলাম;
১৬.
অতপর ফেরাউন (আমার) রসূলকে অমান্য করেছে,
(এর শাস্তি হিসেবে) আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছি।
১৭.
তোমরা যদি (আজ) সেদিনকে অস্বীকার করো তাহলে (আযাব থেকে) কিভাবে তোমরা বাঁচতে পারবে, (অথচ অবস্থার ভয়াবহতা) সেদিন কিশোর
বালকদেরও বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে;
১৮.
যেদিন তার সাথে আসমান ফেটে ফেটে পড়বে,
(এ) হচ্ছে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, আর তা সংঘটিত
হবেই।
১৯. এ
হচ্ছে একটি উপদেশমাত্র, কোনো ব্যক্তি চাইলে (এর মাধ্যমে) নিজের মালিকের দিকে যাওয়ার একটা রাস্তা
ধরতে পারে।
২০.
(হে নবী,) অবশ্যই তোমার
মালিক (একথা) জানেন যে, তুমি এবং তোমার সাথে তোমার সাথীদের
এক দল (এবাদাতের জন্যে কখনো) রাতের দুই-তৃতীয়াংশ, (কখনো) অর্ধেক
অংশ, আবার (কখনো) এক-তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে থাকো; (মূলত) রাত দিনের এ হিসাব তো আল্লাহ তায়ালাই ঠিক করে রাখেন; তিনি (এও) জানেন, তোমরা কখনো এর সঠিক হিসাব করতে
সক্ষম হবে না, তাই তিনি (এ ব্যাপারে) তোমাদের ওপর ক্ষমাপরায়ণ
হয়েছেন, অতএব (এখন থেকে) কোরআনের যে পরিমাণ অংশ তেলাওয়াত
করা তোমাদের জন্যে সহজ, ততোটুকুই তোমরা তেলাওয়াত করো;
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অবস্থা জানেন, তোমাদের
ভেতর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, আবার পরবর্তী কেউ আল্লাহর
অনুগ্রহ (জীবিকা) সন্ধানের উদ্দেশ্যে সফরে বের হতে পারে, আবার
একদল লোক আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিয়োজিত হবে, (এ
পরিপ্রেক্ষিতে) তা থেকে যেটুকু অংশ পড়া তোমাদের জন্যে সহজ ততোটুকুই তোমরা পড়ো;
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত আদায় করো
এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিতে থাকো, (মনে রাখবে), যা কিছু ভালো ও উত্তম কাজ তোমরা আগেভাগেই নিজেদের জন্যে আল্লাহর কাছে
পাঠিয়ে রাখবে, তাই তোমরা তাঁর কাছে (সংরক্ষিত দেখতে) পাবে,
পুরস্কার ও এর বর্ধিত পরিমাণ হিসেবে তা হবে অতি উত্তম, তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিসন্দেহে
আল্লাহ তায়ালা অতীব দয়ালু, অধিক ক্ষমাশীল।
প্রকাশনাঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।
No comments:
Post a Comment