গজনীর সুলতান মাহমুদ।
খুব বিখ্যাত একজন শাসক, যোদ্ধা এবং বীর। তার একজন সভাসদ ছিলেন। খুবই বিশ্বস্ত। নাম তার হোসেন।
প্রায় প্রতিদিনই সুলতানের সঙ্গে কোনো-না-কোনো বিষয় নিয়ে তার শলাপরামর্শ
হত। সেসব আলোচনা ছিল খুবই গোপনীয়। একদিন দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা চলছে
সুলতান ও সভাসদ হোসেনের মধ্যে।
আলোচনা শেষে হোসেন বেরিয়ে এলেন
বাইরে। কয়েকজন লোক তাঁকে ঘিরে ধরল—সুলতানের সঙ্গে আপনার এতক্ষণ কী কী
বিষয়ে পরামর্শ হল আমরা জানতে পারি কি?
হোসেন একটুক্ষণ তাকিয়ে
রইলেন ওদের দিকে। তারপর বললেন—এই বিষয়টা জানার জন্যে সুলতানের সঙ্গেই
আপনাদের কথা বলাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি?
লোকগুলো কিছুক্ষণের জন্যে থমকে গেল। পরে একজন বলল—বুঝতে পেরেছি, আপনি বিষয়টা গোপন রাখতে চাইছেন আমাদের কাছে।
হোসেন বললেন—এটা তো পানির মতো সহজ বিষয়। গোপন রাখব বলেই তো সুলতানের আমি
এত বিশ্বাসভাজন। আমাকে মেরে ফেললেও আমি সুলতানের বিশ্বাস ভঙ্গ করব না।
বিশ্বাস ভঙ্গ করা মহাপাপ।
অনুবাদকঃ আমীরুল ইসলাম
[শেখ সাদীর গল্প ─ লেখকঃ আবু মুহাম্মদ মুসলিহ আল-দীন বিন আবদাল্লাহ শিরাজি (শেখ সাদি বা সাদি শিরাজি বলেও পরিচিত)। অনুবাদকঃ আমীরুল ইসলাম। প্রকাশনাঃ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। গ্রন্থমালা সম্পাদকঃ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। প্রকাশকঃ মোঃ আলাউদ্দিন সরকার]।
No comments:
Post a Comment