নাম তার আয়াজ।
দেখতে-শুনতে খুব একটা সুন্দর নয়। যেমন বেঁটে তেমনই কালো। চোখদুটো কুতকুতে। তোতলা। কথা বলতে গেলে জিভ জড়িয়ে আসে।
কিন্তু সুলতান মাহমুদ তাকে খুব ভালোবাসেন। সুলতানের অনুচরদের মধ্যে সে খুব
প্রিয়। অন্যরা তাই খুব হিংসা করত আয়াজকে। রূপবান এবং শক্তিমান এত অনুচর
থাকতে আয়াজকে কেন এত পছন্দ করেন সুলতান?
এই প্রশ্ন সকলের।
একদিন সুলতান মাহমুদের সভাসদ হোসেন এলেন অনুচরদের আস্তানায়। কয়েকজন অনুচর তাকে ঘিরে ধরল। তারা জিজ্ঞেস করল—
এত শক্তিমান, রূপবান অনুচর থাকতে আমাদের প্রিয় সুলতান কেন আয়াজকে বেশি ভালোবাসেন?
প্রশ্ন শুনে হোসেন মিটিমিটি হাসলেন।
—রূপের চেয়ে গুণের মূল্য অনেক বেশি। রূপ দেখে আমরা মুগ্ধ হই বটে কিন্তু
মর্যাদা দিই গুণীব্যক্তিকে। মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে গুণ দিয়ে,
রূপে নয়। যে সকলকে ভালোবাসে, দেখতে অসুন্দর হলেও সে সকলের ভালোবাসা পাবে।
পৃথিবীর যারা বিখ্যাত মানুষ তারা সকলেই গুণের কারণে বিখ্যাত হয়েছেন—রূপের
কারণে নয়।
আমাদের আয়াজ তোমাদের সকলের মধ্যে সবচেয়ে গুণবান।
সুলতান মাহমুদ গুণের সমাদর করতে জানেন। তাই তিনি আয়াজকে সবচেয়ে বেশি
পছন্দ করেন। তোমরাও রূপবান হওয়ার চেয়ে গুণবান হওয়ার চেষ্টা করো। তাহলে
জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
অনুবাদকঃ আমীরুল ইসলাম
[শেখ সাদীর গল্প ─ লেখকঃ আবু মুহাম্মদ মুসলিহ আল-দীন বিন আবদাল্লাহ শিরাজি (শেখ সাদি বা সাদি শিরাজি বলেও পরিচিত)। অনুবাদকঃ আমীরুল ইসলাম। প্রকাশনাঃ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। গ্রন্থমালা সম্পাদকঃ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। প্রকাশকঃ মোঃ আলাউদ্দিন সরকার]।
No comments:
Post a Comment