Sunday, March 15, 2020

বেদনা-বিধুর সেই সোমবার

সেদিন সোমবার।

চরম বেদনা-বিধুর এক সোমবার।

চির বিদায়ের দিন মহানবীর।

তখন সুবহে সাদিক।

মসজিদে নববীতে ফজরের জামায়াতে সমবেত হয়েছেন সাহাবীরা।

নামায তখন আরম্ভ হয়েছে।

এ সময় মহানবীর হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠল তাঁর পরেও আল্লাহর বান্দারা কিভাবে মহাপ্রভুর উপাসনায় লিপ্ত থাকে তা দেখার জন্য।

তিনি তাঁর কামরার পর্দা তুলে দিতে বললেন। পর্দা উঠে যেতেই মসজিদে নববীতে সাহাবীদের নামাযের জামায়াত দৃশ্যমান হয়ে উঠল।

এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে সেই অন্তিম সময়েও মহানবীর মুখ-মণ্ডলের রোগ-ক্লিষ্টতা যেন দূর হয়ে গেল। আনন্দ-উৎসাহে দীপ্ত হয়ে উঠল তাঁর বদনমণ্ডল। ঠোঁটে দেখা দিল তাঁর হাসির রেখা।

সাহাবীদের দিকে চেয়ে শেষবার যেন হাসলেন মহানবী (সাঃ)।

সেই শেষ দিনের আরেক দৃশ্য।

রোগ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পড়লেন রাহমাতুললিল আলামিন, শেষ নবী মহানবী (সাঃ)।

শিয়রে বসে ছিলেন স্নেহের দুলালী ফাতিমা (রাঃ)।

যন্ত্রণাকাতর পিতার দিকে চেয়ে চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘হায়, আমার পিতা না জানি কত কষ্ট পাচ্ছেন।

স্নেহের দুলালী কন্যা ফাতিমার এই বিলাপ শুনে মহানবী বললেন, ‘ফাতিমা, আর অল্প সময় তোমার পিতার কষ্ট, আজকের পর আর কষ্ট নেই।

মহানবীর পাশে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)। যন্ত্রণা-পীড়িত মহানবীর একটা অভিপ্রায় তিনি বুঝলেন। উম্মুল মুমিনীন একটা মেছওয়াক চিবিয়ে মহানবীর হাতে দিলেন। তা নিয়ে মহানবী (সাঃ) ধীরে ধীরে দাঁতে বুলালেন। নিকটে পানির একটা পাত্র ছিল। পাত্র থেকে হাতে করে পানি নিয়ে মুখে দিতে দিতে তিনি বললেন, “মৃত্যুর অনেক কষ্ট। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। হে আল্লাহ আমাকে মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করার শক্তি দান কর।

দিনের তখন তৃতীয় প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে। মহানবী (সাঃ) বার বার অচেতন হয়ে পড়ছেন। প্রতিবার চেতনা ফিরে আসার পরই তিনি বলছেন, “হে আল্লাহ, হে আমার পরম বন্ধু, হে আমার পরম সুহৃদ তোমার সঙ্গে তোমার সন্নিধানে।

মহানবীর পরম স্নেহভাজন হযরত আলী (রাঃ)-এর কোলে তখন মহানবীর মাথা। চোখ মেললেন মহানবী (সাঃ) এবং আলীর দিকে তাকালেন। বললেন, “সাবধান, দাস-দাসীদের প্রতি নির্মম হয়ো না।

মহানবীর চির বিদায়ের অন্তিম মুহূর্ত।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) মহানবীর মাথা কোলে নিয়ে বসে আছেন। তখন শেষবারের মত মহানবী (সাঃ) চোখ খুললেন। উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘নামাজ, নামাজ সাবধান! দাস-দাসীদের প্রতি সাবধান!এবং মহানবীর কণ্ঠে উচ্চারিত হলো, ‘হে আল্লাহ, হে আমার পরম সুহৃদ!

এটাই ছিল রাহমাতুললিল আলামিনের শেষ নিঃশ্বাসের শেষ কথা।

মহাপ্রভুর উদ্দেশ্যে চির বিদায় ঘটল জগতের শেষ নবী, আশরাফুল আম্বিয়া, রাহমাতুললিল আলামিন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

লেখকঃ আবুল আসাদ
বইঃ আমরা সেই সে জাতি তৃতীয় খণ্ড

No comments:

Post a Comment