আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে পারস্য
উপসাগরের পানির উপর দাঁড়ানো বাহরাইন।
বাহরাইনের শাসক তখন মানজার ইবনে
ছাভী।
ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মহানবী
(সাঃ)-এর একটা চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছল।
ইসলামের উত্থান ও এর গতিধারা
সম্পর্কে আগে থেকেই খবর রাখছিলেন তিনি। ইয়েমেনের শাসনকর্তা ‘বাজান’-এর খবরও তাঁর কাছে
ছিল। পারস্য সম্রাট মহানবী (সাঃ)-কে ধরতে পাঠিয়ে নিজেই ধরাধাম থেকে বিদায় নিলেন, তাও তিনি জানতেন।
মহানবীর চিঠি পেয়ে মানজার সঙ্গে
সঙ্গেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। বাহরাইনের আরব বাসিন্দারাও তাঁর সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ
করলো।
কিন্তু রাজ্যের ইহুদী ও
অগ্নিপূজকরা ইসলাম গ্রহন করলো না।
বাহরাইনের শাসক মানজার ইবনে ছাভী
একে ভালোভাবে নিলেন না। শাসক যাকে ভালো মনে করলেন, প্রজা তাকে ভালো মনে করলো না। এটা সেই
যুগের শাসকদের হজম করা কঠিন ছিল। মানজারও কিছু প্রজার এই ঔদ্ধত্য হজম করতে পারলেন
না। তবে মহানবীর হুকুম ছাড়া কিছু না করার সিদ্ধান্ত তিনি নিলেন।
প্রয়োজনীয় নির্দেশ লাভের জন্যে
মানজার লিখলেন মহানবীর (সাঃ) কাছে।
মানজারের সিদ্ধান্ত এবং মহানবীর
কাছে তাঁর লিখার বিষয়টা ইহুদী ও অগ্নিপূজকরা জানতে পারলো। তারা উদ্বিগ্ন হলো তাদের
ভবিষ্যত নিয়ে।
যথাসময়ে মহানবী (সাঃ)-এর চিঠি এলো
মানজারের কাছে। অত্যন্ত আদবের সাথে চিঠি খুলে পড়তে লাগলেন তিনিঃ
“ধর্ম সম্বন্ধে কোন জোর-জবরদস্তি করা অধর্ম। যে ব্যক্তি
উপদেশ গ্রহণ করে, সে
তো কেবল নিজেরই কল্যাণ সাধন করে থাকে। যারা ইহুদী বা পারসিক ধর্মে থাকতে চায়, তাদেরকে যিজিয়া
দিতে হবে মাত্র। এর অতিরিক্ত অন্য কোন বিষয়ে তাদের উপর তোমার আর কোন অধিকার থাকবে
না।”
চিঠি পড়ে মহানবী (সাঃ)-এর দয়া ও
মহানুভবতায় কেঁদে ফেললেন মানজার। কত বড় দয়ার সাগর তিনি? বিধর্মী প্রজাদের পক্ষ
হয়ে মানজারকেই তিনি শাসন করেছেন।
এই খবর ইহুদী এবং অগ্নিপূজক
প্রজাদেরকেও অভিভূত করলো। এতদিন তারা পারস্য সম্রাট ও তাদের কর্মচারীদের অমানুষিক
অত্যাচারে একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এক যিজিয়ার বিনিময়ে সব কর ও যুলুম থেকে
রেহাই পেয়ে তারা মহানবী (সাঃ)-এর নামে সকলে জয়ধ্বনি করতে লাগলো। ইসলাম গ্রহণের হার
তাদের মধ্যে দ্রুত বেড়ে চললো।
লেখকঃ
আবুল আসাদ
বইঃ
আমরা সেই সে জাতি [তৃতীয় খণ্ড]
No comments:
Post a Comment