Tuesday, December 25, 2018

উমার হলেন আল ফারুক

হযরত উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেই জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, বর্তমানে মুসলিমের সংখ্যা কত?” মহানবী (সাঃ) উত্তর দিলেন, “তোমাকে নিয়ে চল্লিশ জন।উমার বললেন, “এটাই যথেষ্ট। আজ থেকে আমরা এই চল্লিশ জনই কাবা গৃহে গিয়ে প্রকাশ্যে আল্লাহর ইবাদত করবো। ভরসা আল্লাহর। অসত্যের ভয়ে আর সত্যকে চাপা পড়ে থাকতে দেব না।

মহানবী (সাঃ) হযরত উমারের (রাঃ) এই সদিচ্ছার উপর হৃষ্টচিত্তে আদেশ দিলেন। হযরত উমার (রাঃ) সবাইকে নিয়ে উলঙ্গ তরবারি হাতে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে দিতে কা’বা প্রাঙ্গণে গিয়ে উপস্থিত হলেন। মুসলিম দলের সাথে হযরত উমারকে (রাঃ) এভাবে কা’বা প্রাঙ্গণে দেখে উপস্থিত কুরাইশগণ যারপরনাই বিস্মিত ও মনক্ষুন্ন হয়ে পড়ল। তাদের মনোভাব দেখে হযরত উমার (রাঃ) পৌরুষকণ্ঠে গর্জন করে বললেন, “আমি তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি, কোন মুসলিমের কেশাগ্র স্পর্শ করলে উমারের তরবারি আজ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত হবে।

কাবায় উপস্থিত একজন কুরাইশ সাহস করে বলল, “হে খাত্তাব পুত্র উমার! তুমি কি সত্যিই মুসলিম হয়ে গেলে? আরবরা তো কদাচ প্রতিজ্ঞাচ্যুত হয় না। জানতে পারি কি, তুমি কি জিনিস পেয়ে এমনভাবে প্রতিজ্ঞাচ্যুত হলে?”

হযরত উমার (রাঃ) উচ্চকণ্ঠে জবাব দিলেন, “মানুষ যার চেয়ে বেশি পাওয়ার কল্পনা করতে পারে না, আমি আজ তেমন জিনিস পেয়েই প্রতিজ্ঞাচ্যুত হয়েছি। সে জিনিস হলো আল কুরআন।

হযরত উমারের (রাঃ) এরূপ তেজোদৃপ্ত কথা শুনে আর কেউ-ই কোন কথা বলতে সাহস পেল না। বিমর্ষ চিত্তে কুরাইশরা সবাই সেখান থেকে চলে গেল।

অতঃপর মহানবী (সাঃ) সবাইকে নিয়ে কা’বা ঘরে নামায আদায় করলেন। সেখানে মুসলিমদের এটাই প্রথম নামায। এর আগে মুসলিমরা অতি গোপনে ধর্ম কাজ করতেন। পোশাক-পরিচ্ছদের পার্থক্যও রক্ষা করতে পারতেন না। এজন্য কে মুসলিম, কে পৌত্তলিক তা চিনবার উপায় ছিলো না। এ ঘটনার পর মুসলিমরা পোশাক-পরিচ্ছদ ও ধর্মে-কর্মে পৃথক সম্প্রদায়রূপে পরিগণিত হলেন। এ ঐতিহাসিক পরিবর্তন উপলক্ষ্যে মহানবী (সাঃ) হযরত উমারকে “আল ফারূক” উপাধিতে ভূষিত করলেন।

লেখকঃ আবুল আসাদ (আমরা সেই সে জাতি)

No comments:

Post a Comment