Sunday, January 6, 2019

বিত্তবান মানুষটি খলীফা হওয়ার পর হলেন দরিদ্র

খিলাফতের দায়িত্ব নেবার পর লোকেরা উমার বিন আবদুল আযীযকে মুবারকবাদ জানাতে এলো। তিনি বললেন, ‘তোমরা কাকে মুবারকবাদ দিতে এসেছ, সেই ব্যক্তিকে- যে ধ্বংসের মুখে নিক্ষিপ্ত হয়েছে? সবচাইতে বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে গেছে?’

তাঁকে নতুন খলীফা হবার জন্যে রাজ কোষাগার থেকে বিশেষ খুশবু দেয়া হলো। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বললেন, ‘খুশবু গ্রহণ করার মত আনন্দের দিন আমার শেষ হয়েছে। ইসলামী শাসনের অন্তর্ভুক্ত সমগ্র এলাকায় যদি একটি প্রাণীও অনাহারে থাকে বা কোন একজনের উপরও যদি জুলুম হয়, তাহলে সবার আগে মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ উমারকেই পাকড়াও করবেন।

কবিরা দীর্ঘ প্রশস্তিমূলক কবিতা লিখে দরবারে লাইন দিলেন। কিন্তু তাঁরা নিরাশ হলেন। খলীফা প্রশংসা শুনতে চান না। নিজের প্রশংসা শোনার জন্য জনগণের অর্থের একটি কপর্দকও ব্যয় করাকে তিনি আমানতের খেয়ানত মনে করেন।

তিনি নিজের সম্পত্তির যৎকিঞ্চিত রেখে বাইতুলমালে জমা দিয়ে দিলেন। কারণ জনগণের অধিকার অন্যায়ভাবে গ্রাস করে তাঁর পূর্বসূরীরা এ সম্পত্তি হস্তগত করেছিলেন বলে তাঁর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল।

নিজের স্ত্রীকেও তিনি আহবান করে বললেন, ‘আমাকে চাও, না তোমার বাপের দেয়া অন্যায়ভাবে আহরিত তোমার সম্পদগুলো চাও? যদি আমাকে চাও তো এই মুহূর্তে তোমার বাপের দেয়া সোনাদানা সব সম্পত্তি বাইতুলমালে জমা করে দাও।

খলীফা সুলাইমানের কন্যা সোনাদানার পরিবর্তে স্বামীকেই পছন্দ করলেন। খলীফা উমার বিন আব্দুল আযীয রাজপরিবারের লোকদের ভাতাও বন্ধ করে দিলেন।

এইভাবে খলীফা হওয়ার আগে যিনি বিত্তশালী ছিলেন, জাঁক-জমকে ডুবে ছিলেন, তিনি ইসলামী সাম্রাজ্যের খলীফা হবার পর সব বিত্ত ও জাঁক-জমক পরিত্যাগ করে দারিদ্র গ্রহণ করলেন, নেমে এলেন সাধারণ মানুষের কাতারে।

লেখকঃ আবুল আসাদ (আমরা সেই সে জাতি-দ্বিতীয় খন্ড)

No comments:

Post a Comment