খলীফা উমার
ইবন আবদুল আযীযের কাছে বাইতুলমালের জন্যে কিছু খেজুর এলো। তাঁর শিশুপুত্র
সেখান থেকে একটা খেজুর নিয়ে মুখে পুরে দিল। তিনি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই তার গাল থেকে খেজুর বের
করে বাইতুলমালের ঝুড়িতে রেখে দিলেন। ছেলে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে চলে গেল।
বাড়ি ফিরে খলীফা
স্ত্রীর মলিন
মুখ দেখে বললেন, ‘ছেলের
মুখ থেকে খেজুর কেড়ে নেবার সময় আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কি করবো বল।
বাইতুলমাল জনসাধারণের সম্পত্তি। এতে জনসাধারণ হিসেবে আমারও অংশ আছে। কিন্তু ভাগ হবার পূর্বে কেমন করে আমি তা
নিতে পারি?’
আরেক দিনের কথা।
সানাআ থেকে একজন
মহিলা খলীফার কাছে আরযি নিয়ে এলেন। সরাসরি খলীফার কাছে না গিয়ে তিনি খলীফার অন্তঃপুরে গেলেন।
বারান্দায় বেগমের কাছে বসে নিজের সুখ-দুঃখের কাহিনী বলতে লাগলেন।
এমন সময় বাইরে থেকে
এক ব্যক্তি ভেতরে
এলো কুয়ার পানি তুলতে। পানির বালতি টানতে টানতে লোকটি বারবার বেগমের দিকে
তাকাচ্ছিল। বিদেশী মহিলার কাছে বড়ই দৃষ্টিকটু লাগল ব্যাপারটা। তিনি বেগমকে
বললেন, গোলামটিকে
বাইরে যেতে বলছেন না কেন, দেখছেন
না আপনার দিকে কেমন বারবার তাকাচ্ছে।
বেগম একটু মুচকি
হাসলেন।
কিছুক্ষণ পর খলীফার
ডাকে বিদেশী মহিলাটি তার কাছে গিয়ে হাজির হলেন। খলীফাকে দেখে তিনি অবাক।
এতো সেই ব্যক্তি, যে
কুয়ার পানি তুলছিল। হায় হায়, পোশাকে
আশাকে তো তার
চাইতেও গরীব মনে হচ্ছে খলীফাকে।
লেখকঃ আবুল আসাদ (আমরা সেই সে জাতি-দ্বিতীয় খন্ড)
No comments:
Post a Comment